কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের দৈনন্দিন কাজেও জায়গা করে নিয়েছে চ্যাটজিপিটি। লেখালেখি, তথ্য খোঁজা, অফিসের নথি তৈরি থেকে শুরু করে নানা ধরনের ব্যক্তিগত ও পেশাগত কাজে অনেকেই এখন নিয়মিত এই AI সহকারীর সাহায্য নিচ্ছেন। তবে এর সঙ্গে ব্যবহারকারীদের কথোপকথনে কখনো কখনো তৈরি হচ্ছে বেশ মজার কিছু মুহূর্ত।
চ্যাটজিপিটির কোনো উত্তর পছন্দ না হলে কিংবা প্রত্যাশামতো কাজ না করলে অনেক ব্যবহারকারী মজা করে বলে বসেন—‘তোমাকে আনইনস্টল করে দেব।’ কখনো আবার ভুল উত্তর, অতিরিক্ত ব্যাখ্যা কিংবা কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার হতাশা থেকেও আসে এমন হুমকি।
আরও পড়ুন: দিনে ২ ঘণ্টার বেশি ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম নয়, শিশুদের জন্য নতুন নিয়ম মেটার
মজার বিষয় হলো, আনইনস্টলের কথা বলার পরও অনেক ব্যবহারকারী শেষ পর্যন্ত আবার চ্যাটজিপিটির কাছেই ফিরে আসেন। কারণ একবার নিয়মিত ব্যবহারের অভ্যাস তৈরি হলে অফিসের চিঠিপত্র, প্রতিবেদন, অনুবাদ, তথ্য বিশ্লেষণসহ নানা কাজে AI সময় বাঁচানোর একটি কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি এমনই এক কথোপকথনে একজন ব্যবহারকারী জানান, তিনি চ্যাটজিপিটি আনইনস্টল করতে চান। জবাবে চ্যাটজিপিটি তাকে বাধা না দিয়ে বরং জানায়, ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আবার ফিরে আসতে পারেন। পরে ব্যবহারকারী যখন জানতে চান, এতদিনের কাজের কথা চ্যাটজিপিটির মনে আছে কি না, তখন আগের কাজের ধরন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়।
এরপর ব্যবহারকারীর সিদ্ধান্তও বদলে যায়। তিনি বলেন, ‘এতকিছু যেহেতু মনে আছে, সে কারণে আর আনইনস্টল করলাম না।’
আরও পড়ুন: ডার্ক ওয়েবে ৬০ লাখ বাংলাদেশির সিভি বিক্রির দাবি
এই ছোট্ট ঘটনাটি প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষের বদলে যাওয়া সম্পর্কের একটি মজার দিকও তুলে ধরে। একসময় সফটওয়্যারকে মানুষ কেবল একটি যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করলেও AI-ভিত্তিক সেবার ক্ষেত্রে অনেক ব্যবহারকারী এখন এটিকে ব্যক্তিগত সহকারী, লেখার সহযোগী কিংবা কাজের সঙ্গী হিসেবে বিবেচনা করছেন।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, AI-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা না করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের নিজস্ব যাচাই-বাছাই বজায় রাখা জরুরি। প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দায়িত্ব মানুষেরই।

