ইউরোপের দেশ চেক রিপাবলিকে ফুলফান্ডেড স্কলারশিপে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। ২০২৭/২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য চেক সরকারের এই স্কলারশিপে বাংলাদেশসহ নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকরা আবেদন করতে পারবেন। ইংরেজি মাধ্যমে নির্বাচিত মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে পড়ার সুযোগ রয়েছে।
চেক প্রজাতন্ত্রের শিক্ষা, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭/২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদনের সময় শুরু হয়েছে ২১ আগস্ট। আবেদন করা যাবে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বিশেষ সুযোগ। কারণ, এবারের যোগ্য দেশের তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে। তবে সব বিষয়ে আবেদন করা যাবে না। নির্ধারিত নির্বাচিত মাস্টার্স ও ডক্টরাল প্রোগ্রাম থেকেই বিষয় বেছে নিতে হবে।
কোন পর্যায়ে পড়ার সুযোগ
ইংরেজি মাধ্যমে নির্বাচিত দুই বছরের ফলো-আপ মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করা যাবে। এ ছাড়া নির্বাচিত তিন থেকে চার বছরের ডক্টরাল প্রোগ্রামেও আবেদন করা যাবে।
মাস্টার্সে আবেদন করতে হলে স্বীকৃত ব্যাচেলর ডিগ্রি থাকতে হবে। আর পিএইচডির জন্য মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করা থাকতে হবে।
ইংরেজি মাধ্যমে পড়তে আগ্রহী আবেদনকারীদের আবেদন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অনলাইনে ইংরেজি ভাষার একটি প্রবেশিকা পরীক্ষা দিতে হবে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ইংরেজিতে পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা যাচাই করা হবে।
স্কলারশিপে কী কী সুবিধা
চেক সরকারের এই স্কলারশিপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা চেক প্রজাতন্ত্রের সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত প্রোগ্রামে পড়ার সুযোগ পাবেন। স্কলারশিপটি নির্ধারিত কোর্সের স্বাভাবিক সময়কাল পর্যন্ত দেওয়া হবে।
এ ধরনের সরকারি স্কলারশিপের আওতায় পড়াশোনার পাশাপাশি জীবনযাপনের জন্য আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়। তবে নির্দিষ্ট ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার বিস্তারিত শর্ত আবেদনকারীদের সরকারি নির্দেশিকা দেখে নিশ্চিত হতে হবে।
আরও পড়ুনঃ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইউরোপের শীর্ষ ১৩ স্কলারশিপ, দেখুন বিস্তারিত
কারা আবেদন করতে পারবেন
প্রথমত, আবেদনকারীকে অবশ্যই যোগ্য দেশের নাগরিক হতে হবে। ২০২৭/২৮ শিক্ষাবর্ষের তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, জর্জিয়া, ইউক্রেন, বেলারুশের গণতান্ত্রিক শক্তি, ইথিওপিয়া, গ্যাবন, মৌরিতানিয়া, জাম্বিয়া, কম্বোডিয়া, ফিলিস্তিন, গুয়াতেমালা ও হন্ডুরাসের নাগরিকরাও এই স্কলারশিপের জন্য যোগ্য।
মাস্টার্সে আবেদন করতে হলে ব্যাচেলর ডিগ্রি সম্পন্ন থাকতে হবে। পিএইচডিতে আবেদনের জন্য থাকতে হবে মাস্টার্স ডিগ্রি।
এ ছাড়া আবেদনকারী চেক প্রজাতন্ত্রের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত বিদেশি নাগরিক হতে পারবেন না। চেক নাগরিক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকরাও এই নির্দিষ্ট সরকারি স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
আবেদনের জন্য যা যা করতে হবে
আবেদন করতে প্রথমে অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর নির্ধারিত ইলেকট্রনিক আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে।
আবেদনের সঙ্গে মোটিভেশন লেটার পূরণ করতে হবে। পাশাপাশি বাধ্যতামূলক পরীক্ষাগুলোও সম্পন্ন করতে হবে। ইংরেজি মাধ্যমে পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সাধারণ পরীক্ষার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষার পরীক্ষাও দিতে হবে।
একজন আবেদনকারী কেবল একবার নিবন্ধন করতে পারবেন। একই সঙ্গে একটি আবেদন জমা দিতে পারবেন। মোটিভেশন লেটার ও বাধ্যতামূলক পরীক্ষাগুলো শেষ না করলে আবেদন সম্পূর্ণ হবে না।
আবেদনের শেষ সময়
২০২৭/২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদন শুরু হয়েছে ২১ আগস্ট ২০২৬। আবেদনের শেষ সময় ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬। সফল আবেদনকারীরা ২০২৭/২৮ শিক্ষাবর্ষে চেক প্রজাতন্ত্রে পড়াশোনা শুরু করবেন।
তাই আগ্রহী শিক্ষার্থীদের শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য প্রস্তুত করে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবেদন করবেন যেভাবে
চেক সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে Study in Czechia প্ল্যাটফর্মের সংশ্লিষ্ট স্কলারশিপ কল থেকে আবেদন করা যাবে। নিবন্ধনের পর ‘Submit an application’ অপশন থেকেও আবেদন করা যায়।
অফিশিয়াল তথ্য ও আবেদন:
Czech Government Scholarships – Official Information & Application
আবেদনের আগে অবশ্যই সরকারি নির্দেশিকা ভালোভাবে পড়ে নিতে হবে। কোন কোন মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করা যাবে, তার তালিকাও দেখে নিতে হবে। কারণ সব বিষয় বা সব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রাম এই স্কলারশিপের আওতায় নেই।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই স্কলারশিপ পাওয়া নিশ্চিত নয়। যোগ্যতা পূরণ করলেই স্কলারশিপ পাওয়ার আইনগত অধিকার তৈরি হয় না। আবেদনকারীদের প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচিত হতে হবে।

