জিপিএ তুলনামূলক কম হলেও বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তুরস্ক, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে সরকারি ও বেসরকারি বৃত্তি। এসব বৃত্তির কয়েকটিতে শিক্ষাগত ফলাফলের পাশাপাশি কাজের অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের দক্ষতা, আর্থিক প্রয়োজন, গবেষণার পরিকল্পনা ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখার বিষয়গুলোও বিবেচনা করা হয়।
এ ধরনের ১০টি স্কলারশিপের মধ্যে রয়েছে তুরস্কের টার্কিয়ে বুরসলারি, চীনের সিএসসি স্কলারশিপ, জাপানের মেক্সট স্কলারশিপ, দক্ষিণ কোরিয়ার জিকেএস এবং ইউরোপের ইরাসমাস মুন্ডুস জয়েন্ট মাস্টার্স। তবে সব স্কলারশিপে কম জিপিএ গ্রহণযোগ্য নয়। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বছরের সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের শর্ত যাচাই করতে হবে।
১. টার্কিয়ে বুরসলারি স্কলারশিপ—তুরস্ক
তুরস্ক সরকারের টার্কিয়ে বুরসলারি স্কলারশিপ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও অন্যান্য নির্ধারিত পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ দেয়। এতে আবেদনকারীর শিক্ষাগত ফলাফলের পাশাপাশি নেতৃত্বের সম্ভাবনা, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও পড়াশোনার উদ্দেশ্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ন্যূনতম জিপিএ
* স্নাতক পর্যায়ে সাধারণত কমপক্ষে ৭০ শতাংশ বা সমমানের ফলাফল প্রয়োজন;
* স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সাধারণত কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ বা সমমানের ফলাফল প্রয়োজন।
সুযোগ-সুবিধা
* সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ;
* মাসিক ভাতা;
আরও পড়ুন: হার্ভার্ডে গবেষণার সুযোগ, মাসে ১০ হাজার ডলার ভাতা দেবে কুয়েত প্রোগ্রাম
* আবাসন সুবিধা;
* এক বছরের তুর্কি ভাষা শিক্ষা;
* স্বাস্থ্যবিমা;
* যাতায়াতের বিমান টিকিট।
এ স্কলারশিপে নেতৃত্বের সম্ভাবনা, সামাজিক কর্মকাণ্ড, পড়াশোনার উদ্দেশ্য এবং সাক্ষাৎকারের পারফরম্যান্সও বিবেচিত হতে পারে। তবে আইইএলটিএস প্রয়োজন হবে কি না, তা নির্বাচিত প্রোগ্রাম ও সংশ্লিষ্ট বছরের নিয়মের ওপর নির্ভর করে।
আবেদনের সময়: সাধারণত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির দিকে আবেদন নেওয়া হয়। ২০২৭ সালের নির্দিষ্ট সময়সূচি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি থেকে যাচাই করতে হবে।
২. চীনা সরকারের সিএসসি স্কলারশিপ—চীন
চায়না স্কলারশিপ কাউন্সিলের (সিএসসি) মাধ্যমে চীনা সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেয়। এ স্কলারশিপে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একই ন্যূনতম জিপিএ নির্ধারিত নয়। বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামভেদে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত আলাদা হতে পারে।
আবেদনের যোগ্যতা
* সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামের শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে;
* প্রাসঙ্গিক শিক্ষাগত পটভূমি থাকতে হবে;
* সুস্পষ্ট স্টাডি প্ল্যান বা পড়াশোনার পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে;
* প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সনদ জমা দিতে হবে।
সুযোগ-সুবিধা
* টিউশন ফি মওকুফ;
* বিনা মূল্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন অথবা নির্ধারিত আবাসন ভাতা;
* মাসিক ভাতা;
* চিকিৎসাবিমা।
ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত কিছু প্রোগ্রামে আইইএলটিএসের পরিবর্তে পূর্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার সনদ গ্রহণ করা হতে পারে। তবে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শর্তের ওপর নির্ভরশীল।
আরও পড়ুন: কেমব্রিজে এআই ও জীব-নিরাপত্তা নিয়ে নতুনদের গবেষণার সুযোগ, পাবেন যেসব সুবিধা
আবেদনের সময়: সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন নেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময়সীমা বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আলাদা।
৩. মেক্সট স্কলারশিপ—জাপান
জাপান সরকারের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের (মেক্সট) স্কলারশিপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা জাপানে পড়াশোনার সুযোগ পান। দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোনয়নের মাধ্যমে আবেদনের সুযোগ থাকতে পারে।
আবেদনের ক্ষেত্রে যা বিবেচিত হয়
* পূর্ববর্তী পরীক্ষার ফলাফল;
* লিখিত পরীক্ষার পারফরম্যান্স;
* সাক্ষাৎকার;
* গবেষণার প্রস্তাবের মান;
* প্রাসঙ্গিক শিক্ষাগত ও পেশাগত অভিজ্ঞতা।
সুযোগ-সুবিধা
* টিউশন ফি মওকুফ;
* মাসিক ভাতা;
* যাওয়া-আসার বিমান টিকিট;
* প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জাপানি ভাষা শিক্ষার সুযোগ।
এ স্কলারশিপে সব আবেদনকারীর জন্য একই ন্যূনতম জিপিএ প্রযোজ্য নয়। তবে শিক্ষাগত ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। লিখিত পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকারের ফলাফলও নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে পারে।
আবেদনের সময়: দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদনের বিজ্ঞপ্তি সাধারণত এপ্রিল-মে মাসের দিকে প্রকাশিত হয়। ২০২৭ সালের সময়সূচি সংশ্লিষ্ট জাপানি দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি থেকে জানতে হবে।
৪. আগা খান ফাউন্ডেশন আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ
আগা খান ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ কর্মসূচিতে আর্থিক প্রয়োজনের পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতা ও উন্নয়নমূলক কাজে অবদানের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশের মতো নির্ধারিত যোগ্য দেশগুলোর শিক্ষার্থীরাও সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করতে পারেন।
আবেদনের যোগ্যতা
আরও পড়ুন: বাংলাদেশিদের ফুলব্রাইট স্কলারশিপে শিক্ষকতা ও গবেষণার সুযোগ দেবে যুক্তরাষ্ট্র, আবেদন যেভাবে
* আর্থিক প্রয়োজনের প্রমাণ থাকতে হবে;
* ভালো শিক্ষাগত সম্ভাবনা ও ফলাফল থাকতে হবে;
* পড়াশোনা শেষে নিজ দেশে ফিরে উন্নয়নমূলক কাজে অবদান রাখার অঙ্গীকার থাকতে হবে;
* নেতৃত্ব ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা থাকলে তা সহায়ক হতে পারে।
অর্থায়নের ধরন
* সাধারণত ৫০ শতাংশ অনুদান ও ৫০ শতাংশ ঋণের কাঠামোতে অর্থায়ন করা হয়;
* নির্বাচিত প্রোগ্রামের নিয়ম অনুযায়ী টিউশন ফি, জীবনযাত্রা ও যাতায়াতের খরচে সহায়তা দেওয়া হতে পারে।
এটি সব শিক্ষার্থীর জন্য সম্পূর্ণ অনুদান নয়। ঋণের শর্ত এবং পরিশোধের নিয়ম আবেদন করার আগে যাচাই করা জরুরি।
আবেদনের সময়: সাধারণত মার্চ-এপ্রিলের দিকে আবেদন নেওয়া হতে পারে। দেশভেদে যোগ্যতা ও সময়সীমা আলাদা।
৫. গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপ (জিকেএস)—দক্ষিণ কোরিয়া
দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ পান। এ স্কলারশিপে নির্দিষ্ট ন্যূনতম শিক্ষাগত ফলাফলের শর্ত রয়েছে।
ন্যূনতম ফলাফল
* সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত জিপিএ বা শতকরা হারের শর্ত পূরণ করতে হবে;
* ফলাফল নির্ধারিত মানদণ্ডে রূপান্তরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তির নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
সুযোগ-সুবিধা
* যাওয়া-আসার বিমান টিকিট;
* টিউশন ফি;
* মাসিক ভাতা;
* এক বছরের কোরীয় ভাষা শিক্ষা, যদি প্রযোজ্য হয়;
* চিকিৎসাবিমা;
* নির্ধারিত অন্যান্য ভাতা।
আবেদনকারীর ব্যক্তিগত বিবৃতি, পড়াশোনার পরিকল্পনা, সাক্ষাৎকার এবং কোরীয় ভাষার দক্ষতার সনদ থাকলে তা বিবেচনায় আসতে পারে। আইইএলটিএসের প্রয়োজনীয়তা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামের শর্তের ওপর নির্ভর করে।
আবেদনের সময়: দূতাবাসের মাধ্যমে সাধারণত ফেব্রুয়ারি-মার্চ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে মার্চ-এপ্রিলের দিকে আবেদন নেওয়া হতে পারে। নির্দিষ্ট সময়সূচি বার্ষিক বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করা হয়।
৬. ইরাসমাস মুন্ডুস জয়েন্ট মাস্টার্স—ইউরোপ
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরাসমাস মুন্ডুস জয়েন্ট মাস্টার্স কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন দেশের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ পরিচালনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ রয়েছে। প্রোগ্রামভেদে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নির্বাচনের মানদণ্ড আলাদা।
আবেদনের ক্ষেত্রে যা বিবেচিত হয়
* সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা;
* মোটিভেশন লেটার বা আবেদন করার উদ্দেশ্য;
* প্রাসঙ্গিক কাজের অভিজ্ঞতা;
* গবেষণা বা পেশাগত অর্জন;
* বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি।
সুযোগ-সুবিধা
* নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণ বা নির্ধারিত হারে টিউশন ও অংশগ্রহণ ব্যয়ের সহায়তা;
* প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ভাতা;
* যাতায়াত ও অন্যান্য নির্ধারিত খরচে সহায়তা;
* সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির নিয়ম অনুযায়ী বিমা সুবিধা।
আরও পড়ুন: হার্ভার্ডে সাংবাদিকসহ পেশাজীবীদের ফেলোশিপের সুযোগ, বছরে ভাতা ৫৭ হাজার ডলার
সব ইরাসমাস মুন্ডুস প্রোগ্রামে কম জিপিএ গ্রহণ করা হয় না। কোনো কোনো প্রোগ্রামে উচ্চ শিক্ষাগত ফলাফল প্রয়োজন হতে পারে। তাই নিজের বিষয়, কাজের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগত পটভূমির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রোগ্রাম বেছে নেওয়া জরুরি।
আবেদনের সময়: সাধারণত অক্টোবর থেকে জানুয়ারির মধ্যে অনেক প্রোগ্রামে আবেদন নেওয়া হয়। তবে সময়সীমা প্রোগ্রামভেদে আলাদা।
৭. ডিএএডি স্কলারশিপ—জার্মানি
জার্মানির ডিএএডি উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট স্নাতকোত্তর কোর্সের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশের অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেয়। এ কর্মসূচির লক্ষ্য উন্নয়ন খাতে কাজ করা ব্যক্তিদের দক্ষতা বাড়ানো।
আবেদনের যোগ্যতা
* সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে;
* সাধারণত অন্তত দুই বছরের প্রাসঙ্গিক পেশাগত অভিজ্ঞতা প্রয়োজন;
* কাজের অভিজ্ঞতা ও প্রস্তাবিত পড়াশোনার মধ্যে সম্পর্ক থাকতে হবে;
* পড়াশোনা শেষে নিজ দেশে ফিরে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা থাকতে হবে।
সুযোগ-সুবিধা
* মাসিক ভাতা;
* স্বাস্থ্যবিমা;
* যাতায়াত ভাতা;
* নির্ধারিত অন্যান্য শিক্ষা ও গবেষণাসংক্রান্ত সহায়তা।
এ কর্মসূচিতে শুধু জিপিএ নয়, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে পড়াশোনার সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রতিটি কোর্সের নিজস্ব শিক্ষাগত শর্ত পূরণ করতে হবে।
আবেদনের সময়: কোর্সভেদে সময়সীমা আলাদা। অনেক প্রোগ্রামে আগস্ট থেকে নভেম্বরের মধ্যে আবেদন নেওয়া হতে পারে।
৮. অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস স্কলারশিপ—অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস স্কলারশিপের মাধ্যমে নির্ধারিত অংশীদার দেশগুলোর শিক্ষার্থীরা অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান। এ কর্মসূচির বিভিন্ন আঞ্চলিক উপপ্রোগ্রামে যোগ্যতা ও অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র আলাদা হতে পারে।
আবেদনের ক্ষেত্রে যা বিবেচিত হয়
* সংশ্লিষ্ট দেশের জন্য নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা;
* প্রাসঙ্গিক খাতে কাজের অভিজ্ঞতা;
* নেতৃত্বের সম্ভাবনা;
* নিজ দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার পরিকল্পনা;
* পড়াশোনা ও পেশাগত লক্ষ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য।
ইংরেজি ভাষার দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে আইইএলটিএস বা সমমানের পরীক্ষার ফল চাওয়া হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট স্কোর ও অন্যান্য শর্ত সংশ্লিষ্ট দেশের বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর করে।
গুরুত্বপূর্ণ: অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডসের সব কর্মসূচি বাংলাদেশের আবেদনকারীদের জন্য উন্মুক্ত নয়। আবেদন করার আগে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট বছরের যোগ্য দেশের তালিকায় রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।
৯. কমনওয়েলথ স্কলারশিপ—যুক্তরাজ্য
কমনওয়েলথ স্কলারশিপ ও ফেলোশিপ পরিকল্পনার আওতায় কমনওয়েলথভুক্ত দেশের যোগ্য শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান। এ কর্মসূচিতে উন্নয়নমূলক প্রভাব, নেতৃত্ব ও নিজ দেশের অগ্রাধিকারের সঙ্গে পড়াশোনার সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ।
আবেদনের যোগ্যতা
* সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে;
* উন্নয়নমূলক প্রভাব তৈরির সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে;
* প্রাসঙ্গিক পেশাগত অভিজ্ঞতা থাকলে তা সহায়ক হতে পারে;
* নিজ দেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে পড়াশোনার সম্পর্ক দেখাতে হবে।
সুযোগ-সুবিধা
* টিউশন ফি;
* মাসিক জীবনযাত্রার ভাতা;
* যাওয়া-আসার বিমান টিকিট;
* পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গবেষণাপত্রসংক্রান্ত ভাতা;
* শর্তসাপেক্ষে পারিবারিক ভাতা।
এ স্কলারশিপে সাধারণত ভালো শিক্ষাগত ফলাফল প্রয়োজন হয়। তাই কম জিপিএ থাকলে আবেদন করার আগে নির্দিষ্ট স্কিমের যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।
আবেদনের সময়: দেশ ও স্কিমভেদে সময়সীমা আলাদা। অনেক ক্ষেত্রে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন নেওয়া হয়।
১০. পাকিস্তানের এইচইসি স্কলারশিপ
পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশন (এইচইসি) দেশটির শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন বৃত্তি ও গবেষণা অর্থায়ন কর্মসূচি পরিচালনা করে। এর মধ্যে প্রয়োজনভিত্তিক বৃত্তি, দেশীয় পিএইচডি ফেলোশিপ এবং গবেষণা অনুদান রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি
* এইচইসি প্রয়োজনভিত্তিক স্কলারশিপ;
* এইচইসি দেশীয় পিএইচডি ফেলোশিপ;
* এইচইসি জাতীয় গবেষণা প্রকল্প অনুদান;
* পাঞ্জাব এডুকেশনাল এনডাওমেন্ট ফান্ড (পিইইএফ) স্কলারশিপ;
* এহসাস স্নাতক বৃত্তি।
প্রতিটি কর্মসূচির যোগ্যতা, অর্থায়ন ও আবেদনের শর্ত আলাদা। কিছু কর্মসূচিতে আর্থিক প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, আবার কিছুতে নির্দিষ্ট জিপিএ ও অন্যান্য শিক্ষাগত শর্ত পূরণ করতে হয়।
তবে এসব কর্মসূচির অধিকাংশই পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত। তাই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এগুলো সরাসরি প্রযোজ্য ধরে নেওয়া যাবে না।
আবেদন করার আগে যা মনে রাখবেন
বেশি সিজিপিএ থাকলেই যে স্কলারশিপ পাওয়া যাবে, এমন নয়। অধিকাংশ বৃত্তিতে শিক্ষাগত ফলাফলসহ একাধিক বিষয় বিবেচনা করা হয়। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা বৃত্তি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি থেকে যোগ্যতা, অর্থায়নের ধরন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং আবেদনের সময়সীমা যাচাই করে নিতে হবে।

