জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য বৃত্তি দিচ্ছে জার্মান অ্যাকাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিস (ডাড)। স্নাতকোত্তর, পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় এ বৃত্তি দেওয়া হয়। নির্বাচিত শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা মাসিক ভাতার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা, যাতায়াত ভাতা ও গবেষণাসংক্রান্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। তবে বৃত্তির ধরন অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা, যোগ্যতা ও আবেদনের সময়সীমা ভিন্ন হয়। তাই আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির শর্ত যাচাই করা জরুরি।
সুযোগ-সুবিধা
*স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক ৮৫০ ইউরো ভাতার কথা উল্লেখ রয়েছে;
*পিএইচডি পর্যায়ের গবেষকেরা মাসে ১ হাজার ২০০ ইউরো পেতে পারেন;
*পোস্টডক্টরাল গবেষকদের জন্য মাসিক ১ হাজার ৭৫০ ইউরো ভাতার কথা উল্লেখ রয়েছে;
*স্বাস্থ্য, দুর্ঘটনা ও ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা বিমার সুবিধা পাওয়া যেতে পারে;
*নিজ দেশ থেকে জার্মানিতে যাতায়াতের জন্য ভাতা দেওয়া হতে পারে;
*পড়াশোনা ও গবেষণার জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে;
*কিছু কর্মসূচিতে বাড়িভাড়া ভাতা দেওয়া হয়;
*প্রয়োজন অনুযায়ী জার্মান ভাষা শেখার কোর্সের সুযোগ থাকতে পারে;
*আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জার্মানির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ তৈরি হয়;
আবেদনের যোগ্যতা
*স্নাতকোত্তর পর্যায়ে আবেদনের জন্য স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে;
আরও পড়ুন: আপনার প্রোফাইলের সঙ্গে কোন দেশের স্কলারশিপে মিল আছে, চেক করুন এখানে!
*পিএইচডি পর্যায়ে আবেদনের জন্য সাধারণত স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে;
*কর্মসূচিভেদে নির্দিষ্ট জিপিএ বা শিক্ষাগত ফলাফলের শর্ত পূরণ করতে হবে;
*ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত কর্মসূচির জন্য আইইএলটিএস, টোয়েফল অথবা গ্রহণযোগ্য অন্য কোনো ভাষাগত দক্ষতার প্রমাণ লাগতে পারে;
*জার্মান ভাষায় পরিচালিত কর্মসূচির জন্য সংশ্লিষ্ট ভাষাগত দক্ষতার সনদ প্রয়োজন হতে পারে;
*কিছু কর্মসূচিতে পূর্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার সনদ গ্রহণ করা হতে পারে;
*পিএইচডি পর্যায়ের কিছু কর্মসূচিতে গবেষণা-তত্ত্বাবধায়কের সম্মতি প্রয়োজন হতে পারে;
*কিছু কর্মসূচিতে জার্মানিতে পূর্ববর্তী বসবাসের সময় এবং ডিগ্রি অর্জনের পর কত বছর পার হয়েছে, সে বিষয়ে শর্ত থাকতে পারে;
তবে ডাডের সব কর্মসূচিতে একই যোগ্যতা প্রযোজ্য নয়। আবেদনকারীর জাতীয়তা, শিক্ষাস্তর, বিষয় ও নির্বাচিত কর্মসূচি অনুযায়ী শর্ত নির্ধারিত হয়।
উল্লেখযোগ্য বৃত্তি কর্মসূচি
ইপিওএস (EPOS): উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জার্মানিতে স্নাতকোত্তর পড়তে আগ্রহীদের জন্য;
রিসার্চ গ্র্যান্টস—ডক্টরাল প্রোগ্রামস ইন জার্মানি: জার্মানিতে পিএইচডি পর্যায়ে গবেষণার জন্য;
হেলমুট-শ্মিট প্রোগ্রাম: জননীতি ও জনপ্রশাসন-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়াশোনার জন্য নির্দিষ্ট কর্মসূচি;
প্রতিটি কর্মসূচির আবেদনপ্রক্রিয়া, যোগ্যতা, বৃত্তির পরিমাণ ও সময়সীমা আলাদা হতে পারে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
*ডাডের নির্ধারিত আবেদন ফরম;
*জীবনবৃত্তান্ত (সিভি);
*মোটিভেশন লেটার বা আবেদন করার কারণ উল্লেখ করে লেখা চিঠি;
*শিক্ষাগত সনদ ও নম্বরপত্র;
*আইইএলটিএস, টোয়েফল অথবা গ্রহণযোগ্য ভাষাগত দক্ষতার প্রমাণ;
*সুপারিশপত্র;
*পিএইচডি পর্যায়ের আবেদনকারীদের জন্য গবেষণা-প্রস্তাব;
*প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গবেষণা-তত্ত্বাবধায়কের সম্মতিপত্র;
আরও পড়ুন: কানাডায় পিএইচডিতে বিশাল বৃত্তির সুযোগ, বছরে মিলবে ৬৫ লাখ টাকা
*প্রয়োজন অনুযায়ী পাসপোর্টের কপি ও অন্যান্য নথি;
কর্মসূচিভেদে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকায় পরিবর্তন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বৃত্তির নির্দেশনা দেখে নিতে হবে।
আবেদনপ্রক্রিয়া
প্রথমে ডাডের ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের শিক্ষাস্তর, বিষয় ও জাতীয়তা অনুযায়ী উপযুক্ত বৃত্তি খুঁজে নিতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদনের শেষ তারিখ যাচাই করতে হবে। পিএইচডি পর্যায়ের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য গবেষণা-তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজন হতে পারে।
নির্ধারিত আবেদন ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন জমা দিতে হবে। বৃত্তি ও আবেদনপদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ডাডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এবং বৃত্তি ডেটাবেজে ভিজিট করুন।
আবেদনের শেষ তারিখ: ১৫ নভেম্বর ২০২৬। তবে সব বৃত্তির সাধারণ শেষ তারিখ নয়। আবেদন করার আগে নির্দিষ্ট কর্মসূচির ওয়েবসাইটে সময়সীমা যাচাই করুন।

