প্রতিদিন কলা খাওয়ার এই উপকারিতাগুলো কি জানেন?

জিটি ডেস্ক

প্রকাশ:

নিয়মিত কলা খেলে কি সত্যিই স্বাস্থ্য উপকার পাওয়া যায়?
নিয়মিত কলা খেলে কি সত্যিই স্বাস্থ্য উপকার পাওয়া যায়?|ছবি: সংগৃহীত

সারা বছর সহজলভ্য হওয়ায় কলা আমাদের খাদ্যতালিকার অন্যতম পরিচিত ফল। যাত্রাপথে সহজে খাওয়ার জন্য, স্কুলের লাঞ্চবক্সে কিংবা অফিসে হালকা নাশতা হিসেবে অনেকেই কলা সঙ্গে রাখেন। তবে নিয়মিত কলা খেলে কি সত্যিই স্বাস্থ্য উপকার পাওয়া যায়, নাকি এটি শুধু অভ্যাস? জেনে নেওয়া যাক প্রতিদিন কলা খাওয়ার সম্ভাব্য উপকারগুলো।

১. ব্যায়ামের আগে প্রাকৃতিক জ্বালানি

পাকা কলায় থাকা দ্রুত হজমযোগ্য প্রাকৃতিক শর্করা ব্যায়ামের আগে শরীরকে দ্রুত ব্যবহারযোগ্য শক্তি দিতে পারে। অ্যাপালেচিয়ান স্টেট ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণা PLOS ONE-এ প্রকাশিত হয়। সেখানে ৭৫ কিলোমিটারের কঠিন সাইক্লিং টাইম ট্রায়ালের সময় কলা খাওয়া সাইক্লিস্টদের সঙ্গে ৬ শতাংশ কার্বোহাইড্রেটযুক্ত স্পোর্টস ড্রিংক পান করা সাইক্লিস্টদের তুলনা করা হয়।

আরও পড়ুন: তথ্য পাচার বন্ধ করতে চ্যাটজিপিটির লকডাউন মোড

গবেষণায় দেখা যায়, দুই দলের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বা সাইক্লিং পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য ছিল না। অর্থাৎ, তীব্র ব্যায়ামের সময় শক্তি জোগাতে একটি কলা বিশেষভাবে তৈরি স্পোর্টস ড্রিংকের মতোই কার্যকর হতে পারে।

২. পেশির কার্যকারিতা বাড়ায়

কলা পটাশিয়ামের অন্যতম পরিচিত উৎস। পটাশিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, যা স্বাভাবিক পেশি ও স্নায়ুর কার্যকারিতার সঙ্গে যুক্ত। স্বাভাবিক পেশি সংকোচনের জন্যও এটি প্রয়োজনীয়।

ব্যায়ামের সময় ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে তরল ও ইলেক্ট্রোলাইট বের হয়ে যায়। এ কারণে পর্যাপ্ত ইলেক্ট্রোলাইট গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে পটাশিয়ামের ঘাটতি থাকলে ব্যায়ামজনিত খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই পটাশিয়ামের ঘাটতি পূরণে কলা একটি সহজ উপায় হতে পারে।

৩. কম পাকা কলা স্থিতিশীল শক্তি দিতে পারে

সব কলা একই ধরনের কার্বোহাইড্রেট সরবরাহ করে না। কলা কতটা পেকেছে, তার ওপর এর কার্বোহাইড্রেটের গঠনও পরিবর্তিত হয়। পাকা কলার তুলনায় কাঁচা বা কম পাকা কলায় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ বেশি থাকে।

রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ধীরে হজম হয়। ফলে এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে এবং তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল শক্তি সরবরাহে সহায়তা করতে পারে।

আরও পড়ুন: ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হবে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন

৪. দুই পর্যায়ে শক্তি সরবরাহ করে

কলার পাকার মাত্রার ওপর নির্ভর করে এতে দ্রুত হজমযোগ্য শর্করার পাশাপাশি ধীরে হজম হওয়া ফাইবার বা স্টার্চও থাকে। তাই শুধু হালকা নাশতা হিসেবে নয়, প্রশিক্ষণের আগে ও পরেও কলা ভালো শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে।

৫. শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে

ব্যায়ামের সময় শরীর থেকে যে গুরুত্বপূর্ণ ইলেক্ট্রোলাইটগুলো বের হয়ে যায়, পটাশিয়াম তার অন্যতম। ব্যায়ামের পর পটাশিয়ামের ঘাটতি পূরণ করলে শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ব্যায়ামের পর এটি শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে পুনরুদ্ধারে সহায়ক হতে পারে।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!