সতেজ ও কর্মক্ষম থাকতে অনেকেই ক্যাফেইনের ওপর নির্ভর করেন। জেগে থাকা ও কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে প্রতিদিন ক্যাফেইন গ্রহণ করেন এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয়। তবে প্রতিদিন কতটা ক্যাফেইন গ্রহণ করলে তা ক্ষতিকর হতে পারে, এ প্রশ্ন অনেকেরই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন নিরাপদ বলে মনে করা হয়। এই পরিমাণ ক্যাফেইন প্রায় চার কাপ তৈরি কফি, ১০ ক্যান কোলা বা দুটি এনার্জি শট ড্রিংকের সমান। তবে বিভিন্ন পানীয়তে ক্যাফেইনের পরিমাণ ব্যাপকভাবে ভিন্ন হতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) সতর্ক করে বলেছে, গুঁড়া বা তরল ক্যাফেইন থেকে বিষাক্ত মাত্রায় ক্যাফেইন গ্রহণ হতে পারে। মাত্র এক চা-চামচ গুঁড়া ক্যাফেইন প্রায় ২৮ কাপ কফির সমান। ক্যাফেইনের এমন উচ্চ মাত্রা মৃত্যুসহ গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে।
আরও পড়ুন: পোড়া খাবার কি ক্যানসারের ঝুঁকি
গর্ভবতী নারী, গর্ভধারণের চেষ্টা করছেন এমন নারী এবং যারা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান, তাদের ক্যাফেইন গ্রহণ সীমিত করার বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। যারা ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীল বা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ সেবন করেন, তাদের জন্য ক্যাফেইন ভালো বিকল্প নাও হতে পারে।
আপনি যদি দিনে চার কাপের বেশি ক্যাফেইনযুক্ত কফি পান করেন অথবা মাথাব্যথা, ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা বা খিটখিটে ভাব, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া কিংবা প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ কমানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন।
কারও কারও ক্ষেত্রে অল্প পরিমাণ ক্যাফেইন গ্রহণেও দ্রুত হৃদস্পন্দন, পেশি কাঁপা, পেটের সমস্যা কিংবা শরীর কাঁপার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে কফি পান করা কমানো বা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
বেশিরভাগ ওষুধের সঙ্গে পরিমিত পরিমাণ ক্যাফেইন গ্রহণ নিরাপদ। তবে এফেড্রিনযুক্ত কোনো ওষুধ সেবন করলে ক্যাফেইন গ্রহণ করা উচিত নয়। এই দুটি একসঙ্গে গ্রহণ করলে কারও কারও ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা খিঁচুনির ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: বিয়েতে কনের লাল শাড়ির রহস্য কী? জানুন এর আসল কারণ
হঠাৎ ক্যাফেইন গ্রহণ বন্ধ করলে প্রত্যাহারজনিত উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে মাথাব্যথা, ক্লান্তি, খিটখিটে ভাব এবং মনোযোগ দিতে সমস্যা থাকতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব উপসর্গ হালকা হয় এবং কয়েক দিন পর ভালো হয়ে যায়।
তাই ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমানো ভালো। প্রতিদিন একটি ক্যান কম সোডা পান করা, ছোট কাপে কফি পান করা অথবা দিনের শেষ দিকে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলার মাধ্যমে এটি করা যেতে পারে। এতে শরীর ক্যাফেইনের কম মাত্রার সঙ্গে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হওয়ার সুযোগ পাবে এবং ক্যাফেইন কমানোর ফলে দেখা দেওয়া উপসর্গও কম হতে পারে।

