মূল বিষয়বস্তুতে যানThe Generation Today
 
The Generation Today
সর্বশেষশিক্ষাউচ্চশিক্ষাপরীক্ষাভর্তিচাকরিস্কলারশিপতারুণ্যপ্রযুক্তিখেলাবিনোদনলাইফস্টাইলভিডিওবাংলাদেশআন্তর্জাতিকশিক্ষাপ্রশাসনঅর্থনীতিপ্রবাসনির্বাচনশিক্ষা আন্দোলনআইন-আদালতনারী ও শিশুঅপরাধপরিবেশ ও জলবায়ুভ্রমণ-পর্যটনপুরস্কার-সম্মাননাউদ্ভাবন আবিষ্কারস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাব্যক্তিত্বসাহিত্য-সংস্কৃতিসাক্ষাৎকারবিচিত্র খবরসম্পাদকীয়বইমেলাফ্যাক্টচেকপ্রিয় বইমতামতশিক্ষাব্যবস্থা
সর্বশেষ
শিক্ষা
উচ্চশিক্ষা
The Generation Today
সর্বশেষশিক্ষাউচ্চশিক্ষাপরীক্ষাভর্তিচাকরিস্কলারশিপতারুণ্যপ্রযুক্তিখেলাবিনোদন
The Generation Today
হোমপেজসর্বশেষরাজনীতিঅর্থনীতিআইন-আদালতবিনোদনলাইফস্টাইলমতামত
সর্বশেষ
সরকাররাজনীতিসংসদসারা দেশরাজধানীজেলাঅপরাধদুর্ঘটনাআইন-আদালতকৃষি ও খাদ্যপানি-বিদ্যুৎ-জ্বালানি
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মধ্যপ্রাচ্যএশিয়াইউরোপআমেরিকাআফ্রিকাঅন্যান্য
ব্যাংক ও আর্থিকশিল্পবাণিজ্যবিশ্ববাণিজ্যবাজারউদ্যোক্তাবাজেটঅন্যান্য
ফ্রিল্যান্সিংপ্রশিক্ষণএআইগ্যাজেটবিজ্ঞানটিপসঅন্যান্য
ফুটবলক্রিকেটবিপিএলআইপিএলঅন্যান্য
খবরস্নাতকস্নাতকোত্তরপ্রফেশনাল প্রোগ্রামএমফিল-পিএইচডিক্যাম্পাস
খবরদেশিবিদেশিপ্রস্তুতি ও পরামর্শফলাফল
সারা দেশআন্দোলনখেলাআন্তর্জাতিকজীবনের গল্পবিজয়গাথাঐতিহ্যঐতিহাসিক স্থানসাক্ষাৎকারঅন্যান্য
নির্বাচনপ্রবাসসাক্ষাৎকারসাফল্যসংস্কৃতিসাহিত্যবইমেলাশিক্ষা আন্দোলনপরিবেশ ও জলবায়ুলাইফস্টাইলস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাধর্মউদ্ভাবন আবিষ্কারব্যক্তিত্বপুরস্কার-সম্মাননাভ্রমণ-পর্যটনবিচিত্র/অফবিটশিক্ষক-কর্মচারী আন্দোলন
সম্পাদকীয়
মতামত
প্রতিযোগিতাবিতর্ককুইজঅলিম্পিয়াডসাফল্যউৎসব-পার্বণ
বিনোদন
আইন-আদালত
নারী ও শিশু
দরকারি তথ্যপরীক্ষার সময়সূচিভর্তি পরীক্ষাবোর্ড পরীক্ষাঅ্যাকাডেমিক পরীক্ষাপ্রস্তুতি ও পরামর্শমডেল টেস্টপ্রশ্ন সমাধানফলাফল
খবরমতামত
শিক্ষা মন্ত্রণালয়প্রাথমিক ও গণশিক্ষাশিক্ষা বোর্ডএনটিআরসিএইউজিসিপিএসসিঅন্যান্য
বিচিত্র খবর
ফ্যাক্টচেক
ব্যাংক-বিমা
দরকারি তথ্যস্কুলকলেজবিশ্ববিদ্যালয়অন্যান্য
আরও

চিন্তার আকাশে কুয়াশা: কী এই ব্রেন ফগ?

ড

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪২ PM

মস্তিষ্কের কুয়াশা
মস্তিষ্কের কুয়াশা|ছবি: সংগৃহীত

কথা বলতে বলতে হঠাৎ পরিচিত একটি শব্দ মনে পড়ছে না। পড়ার টেবিলে বসেও মনোযোগ ধরে রাখা যাচ্ছে না। কিছুক্ষণ আগে কী করতে এসেছিলেন, সেটিও ভুলে যাচ্ছেন। পর্যাপ্ত ঘুমের পরও মাথা ভারী লাগছে, চিন্তা করতে আগের চেয়ে বেশি সময় লাগছে। এমন অভিজ্ঞতাকে অনেকেই সাধারণ ক্লান্তি, অলসতা কিংবা অতিরিক্ত চিন্তার ফল বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু এ ধরনের সমস্যা বারবার হলে এর পেছনে থাকতে পারে শারীরিক বা মানসিক স্বাস্থ্যের কোনো কারণ।

এই অভিজ্ঞতারই পরিচিত নাম ‘ব্রেন ফগ’ (Brain Fog), বাংলায় যার অর্থ দাঁড়ায় মস্তিষ্কের কুয়াশা। এটি কোনো স্বতন্ত্র রোগের নাম নয়; বরং মনোযোগ, স্মৃতি, চিন্তার গতি ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণে অসুবিধার একটি সমষ্টিগত বর্ণনা। চিকিৎসাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন ফগের কারণে দৈনন্দিন কাজ, কথোপকথন এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো সাধারণ বিষয়ও কঠিন মনে হতে পারে।

আরও পড়ুন: টিকটিকি দেখলে ভয় লাগে, জানুন কারণ

যখন নিজের মস্তিষ্ককেই ধীর মনে হয়

ব্রেন ফগে আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণত নিজের চিন্তাপ্রক্রিয়ায় একধরনের অস্পষ্টতা অনুভব করেন। কোনো কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন না, পরিচিত তথ্য মনে করতে সময় লাগে কিংবা একসঙ্গে একাধিক কাজ সামলাতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। কখনো কথার মাঝখানে চিন্তার সূত্র হারিয়ে ফেলেন। কারও ক্ষেত্রে মানসিক ক্লান্তি, ঝিমুনি ও সিদ্ধান্তহীনতাও দেখা দিতে পারে।

সমস্যাটি সব সময় একই রকম থাকে না। কখনো কয়েক ঘণ্টা, কখনো কয়েক দিন ধরে উপসর্গ অনুভূত হতে পারে। আবার কোনো অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্যসমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হলে এটি দীর্ঘস্থায়ীও হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যবিষয়ক সরকারি তথ্যসেবা হেলথডিরেক্ট বলছে, ব্রেন ফগের কারণে পড়াশোনা, কর্মক্ষেত্র, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং আত্মবিশ্বাসে প্রভাব পড়তে পারে। তবে শুধু ভুলে যাওয়া বা মনোযোগের ঘাটতি থাকলেই কারও ব্রেন ফগ হয়েছে কিংবা গুরুতর কোনো রোগ রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

আরও পড়ুন: ভালো ঘুমের জন্য কী করবেন?

কেন তৈরি হয় মস্তিষ্কের এই কুয়াশা?

ব্রেন ফগের পেছনে একটিমাত্র কারণ নেই। ঘুমের ঘাটতি, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, পানিশূন্যতা এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। আবার রক্তস্বল্পতা, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, উদ্বেগ, বিষণ্নতা কিংবা কিছু দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার কারণেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ইউনিভার্সিটি অব রচেস্টার মেডিক্যাল সেন্টারের একটি স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনিয়মিত ঘুম, খাবার বাদ দেওয়া, পুষ্টির ঘাটতি, ধূমপান ও ভ্যাপিংয়ের মতো বিষয় মানসিক স্বচ্ছতা ও মনোযোগের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। অর্থাৎ, মাথা ঝাপসা লাগলেই যে মস্তিষ্কের নিজস্ব কোনো রোগ হয়েছে, তা নয়। কখনো দৈনন্দিন জীবনযাপনের অভ্যাস, কখনো ওষুধ, আবার কখনো চিকিৎসাযোগ্য কোনো শারীরিক সমস্যা এর পেছনে থাকতে পারে।

আরও পড়ুন: আক্কেল দাঁত কেন ওঠে, এত ব্যথা কেন হয়?

নারীদের মেনোপজেও বাড়তে পারে সমস্যা

ব্রেন ফগ নিয়ে আলোচনায় নারীদের মেনোপজকালীন অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। মেনোপজের আগের ও পরের হরমোনগত পরিবর্তনের সময় অনেক নারী ভুলে যাওয়া, মনোযোগের ঘাটতি কিংবা পরিচিত শব্দ মনে করতে অসুবিধার কথা জানান।

২০২৬ সালের ১৩ এপ্রিল ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) প্রকাশিত একটি গবেষণাভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়, মেনোপজের পরিবর্তনকাল অতিক্রমকারী দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি নারী স্মৃতি বা মনোযোগসংক্রান্ত সমস্যার কথা জানান। গবেষকেরা হরমোনের পরিবর্তন, ঘুমের ব্যাঘাত এবং মানসিক ও সামাজিক চাপকে সম্ভাব্য সংশ্লিষ্ট কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে এই অভিজ্ঞতা মানেই স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়া নয়। মেনোপজের সময় সবার উপসর্গ এক রকম হয় না। হরমোন থেরাপিও সবার ক্ষেত্রে ব্রেন ফগ দূর করার নিশ্চিত সমাধান নয়। উপসর্গের ধরন ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যাবস্থা বিবেচনায় চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: পোড়া খাবার কি ক্যানসারের ঝুঁকি

ঘুমের সঙ্গে মস্তিষ্কের স্বচ্ছতার সম্পর্ক

মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত কম ঘুমানো, রাত জেগে কাজ করা কিংবা ঘুমের সময় বারবার ভেঙে যাওয়া মনোযোগ ও স্মৃতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। একইভাবে দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ঘুমের মান কমিয়ে দিয়ে সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। এর সঙ্গে অনিয়মিত খাবার, অপর্যাপ্ত পানি পান এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা যুক্ত হলে ক্লান্তি ও মনোযোগের সমস্যা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। তবে সব ব্রেন ফগের কারণ ঘুমের অভাব নয়। পর্যাপ্ত ঘুমের পরও সমস্যা চলতে থাকলে অন্য সম্ভাব্য কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন।

ব্রেন ফগ কমাতে কী করা যায়?

ব্রেন ফগের জন্য সবার ক্ষেত্রে কার্যকর এমন কোনো একক চিকিৎসা নেই। এর ব্যবস্থাপনা নির্ভর করে সমস্যার কারণের ওপর। জীবনযাপনের কিছু পরিবর্তন উপসর্গ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

প্রথমত, নিয়মিত ঘুমের সময় নির্ধারণ করতে হবে এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সুষম খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। দীর্ঘ সময় একটানা কাজ না করে মাঝেমধ্যে বিরতি নেওয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুন: বিয়েতে কনের লাল শাড়ির রহস্য কী? জানুন এর আসল কারণ

কাজের তালিকা তৈরি, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লিখে রাখা এবং একসঙ্গে অনেক কাজ করার বদলে একটি কাজে মনোযোগ দেওয়াও সহায়ক হতে পারে। মানসিক চাপ বেশি থাকলে শিথিলায়ন, নিয়মিত ব্যায়াম কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া উপকারী হতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভিটামিন, সাপ্লিমেন্ট বা অন্য কোনো ওষুধ শুরু করা উচিত নয়। পুষ্টির ঘাটতি থাকলে তার যথাযথ মূল্যায়ন ও চিকিৎসা প্রয়োজন।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

ব্রেন ফগের উপসর্গ ঘন ঘন হলে, দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে কিংবা পড়াশোনা, চাকরি ও দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটালে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক ঘুমের সমস্যা, মানসিক স্বাস্থ্য, ব্যবহৃত ওষুধ, পুষ্টির ঘাটতি কিংবা অন্যান্য শারীরিক সমস্যার মূল্যায়ন করতে পারেন।

আর হঠাৎ তীব্র বিভ্রান্তি, কথা জড়িয়ে যাওয়া, শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে পড়া বা নতুন করে তীব্র মাথাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। এসব লক্ষণকে সাধারণ ব্রেন ফগ ধরে অপেক্ষা করা বিপজ্জনক হতে পারে।

আরও পড়ুন: নিখুঁত হওয়ার অতিরিক্ত চেষ্টা যেভাবে মানসিক চাপ বাড়ায়

সচেতনতাই প্রথম পদক্ষেপ

ব্রেন ফগ এমন একটি অভিজ্ঞতা, যা মানুষের কর্মক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু একে একদিকে যেমন হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়, অন্যদিকে সামান্য ভুলে যাওয়াকেও গুরুতর রোগের লক্ষণ মনে করে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।

উপসর্গের ধরন, স্থায়িত্ব এবং দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনুসন্ধান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সমন্বয়ে অনেক ক্ষেত্রেই পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

মস্তিষ্কের স্বচ্ছতা শুধু বেশি কাজ করার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ঘুম, পুষ্টি, মানসিক সুস্থতা ও সামগ্রিক শারীরিক স্বাস্থ্য। তাই বারবার মাথা ঝাপসা লাগলে নিজেকে দোষারোপ না করে সমস্যাটিকে গুরুত্ব দেওয়াই হতে পারে সুস্থতার প্রথম ধাপ।

ট্যাগ:চিন্তার আকাশব্রেন ফগমস্তিষ্কের কুয়াশা।লাইফস্টাইল

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!