দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে ৩২২ দিন পর ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করল সরকার। এর মধ্য দিয়ে ৪৫তম বিসিএসের পদধারী ক্যাডারদের লম্বা অপেক্ষার ইতি ঘটল। ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেটে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ১৭০২ প্রার্থীর নাম গেজেটভুক্ত করে। শেষমুহূর্তে জারি হওয়া এই গেজেটে প্রাথমিকভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১০৫ জনের নাম নেই।
নাম না থাকার বিষয়ে প্রার্থীদের অনেকেই বলছেন, গেজেট প্রকাশে দেরি হওয়ায় অনেকেই ইতোমধ্যে অন্য চাকরিতে যোগদান করেছেন। অন্য কোনো সার্ভিসেও যোগদান করেছেন অনেকে। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো তথ্য এখনো সামনে আসেনি। তাতক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকেও।
জানা যায়, ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে শুরু করে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত মোট সময় লেগেছে প্রায় ৩ বছর ১০ মাস। ২,৩০৯টি শূন্য পদের বিপরীতে ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বরে ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল বালাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি)। সেসময় চলমান জটের কারণে তিন ধাপের; প্রিলিমিনারি, লিখিত, মৌখিক পরীক্ষা শেষ হতে সময় লেগে যায় ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত। পরের বছরের ৬ নভেম্বর ক্যাডার পদে মোট ১,৮০৭ জনকে সাময়িকভাবে সুপারিশ করে ফলাফল প্রকাশ করে সরকারের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।
আরও পড়ুন: ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত, সুপারিশ পেলেন ১৭০২ প্রার্থী
এরপর সময় গড়িয়ে এক একে ৫টি বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলেও টানা ৩২২ দিন ধরে চূড়ান্ত গেজেটের অপেক্ষায় প্রহর গুনেছেন ১৮০৭ ক্যাডার প্রার্থী। যেখানে গেজেটের অপেক্ষায় থাকা অনেকেই বেকারত্বের চূড়ান্ত দাগ মুছতে অন্যান্য চাকরিতে প্রবেশ করেছেন। অনেকেই আবার আগের বিসিএসে গেজেটভুক্ত হয়ে চূড়ান্তভাবে চাকরিতে যোগদান করেছেন। যে কারণে ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেটে প্রাথমিকভাবে সুপারিশ করা ১৮০৭ জনের মধ্যে ১০৫ জনের নাম চূড়ান্ত গেজেটে নেই।
ফলাফল প্রকাশে এত দেরি হওয়ার কারণ হিসেবে বারবার উঠে আসছে পুনঃভেরিফিকেশনের কথা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে, ৪৫তম বিসিএসের ভেরিফিকেশন রিপোর্ট একটি গোয়েন্দা সংস্থা গত জুলাই মাসে মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছিল। তবে পরবরর্তীতে নতুন করে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, অপর একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে দিয়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পুনরায় ভেরিফিকেশন করানো হবে।
একটি বিসিএসের ফলাফল প্রকাশে এত দেরি করা উচিত নয় বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্টরা। কারণ হিসেবে তারা বলছেন এতে একদিকে যেমন বেকার যুবকদের চাকরিজনিত অনিশ্চিয়তা তৈরি হয় অন্যদিকে আবার ওভারল্যাপের সম্ভাবনাও তৈরি হয়। যেটার প্রভাব পরবর্তীতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে গিয়ে পড়ে।

