স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা আঞ্চলিক সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। দুর্ঘটনায় পড়া দুটি ট্রেনে ৫০০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
কাস্তিয়া-লা মাঞ্চার কর্মকর্তারা জানান, বেসরকারি রেল অপারেটর ‘ইরিয়ো’র একটি ট্রেনে ১৪৭ জন এবং অপর ট্রেনটিতে ৩৯৭ জন যাত্রী ছিলেন। তবে ইরিয়োর ট্রেনটি থেমে থাকা অবস্থায় দ্রুতগতির অন্য ট্রেনটি পেছন থেকে ধাক্কা দিয়েছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি তারা।
উরদা শহরটি মাদ্রিদ থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার (১০০ মাইল) দক্ষিণে অবস্থিত।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের সহায়তা করছেন। পাশাপাশি জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ট্রেনের এক যাত্রী স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, যাত্রা শুরুর প্রায় ৪০ মিনিট পর তারা একটি তীব্র ধাক্কা অনুভব করেন।
আরও পড়ুন: অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সহায়তার দ্বিগুণের বেশি বিদেশি ঋণ পরিশোধ
উদ্ধার ও জরুরি কার্যক্রমে দমকলকর্মী, প্যারামেডিকসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের নিয়োজিত করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে তিনটি হেলিকপ্টারও মোতায়েন রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে সিগন্যালিং ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার।
এদিকে, দুর্ঘটনাকবলিত দুই ট্রেনের যাত্রীদের স্বজনদের সহায়তায় একটি হটলাইন চালু করেছে দেশটির জাতীয় রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেনফে।
দুর্ঘটনার পর পার্লামেন্টের দিনের নির্ধারিত সব কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘটনায় ‘মর্মাহত’ হওয়ার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আহত ব্যক্তিদের ও তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি এবং সমর্থন প্রকাশ করেছেন তিনি।
এর আগে, গত জানুয়ারিতে একই রুটে দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন।

