দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কঠোর শাস্তি ও অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তের দাবিতে হাজারো জেন-জিদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গত বছরের সরকারবিরোধী আন্দোলন ও দাঙ্গার এক বছর পূর্তির দিনে পার্লামেন্ট ভবন অভিমুখে মিছিল করেন বিক্ষোভকারীরা।
আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি, ২০০৮ সাল থেকে ঝুলে থাকা ‘সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ বিল’ দ্রুত পাস করা। এই আইন কার্যকর হলে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অবৈধ সম্পদ আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগেই রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন বিক্ষোভকারীরা।
আরও পড়ুন: মক্কা চুক্তিতে যোগ দিতে আগ্রহী বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
অনেক বিক্ষোভকারী দুর্নীতির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখারও দাবি জানিয়েছেন।
আন্দোলনের চাপে পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার সুফমি দাসকো আহমাদসহ শীর্ষ আইনপ্রণেতারা বিক্ষোভকারীদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ বিল পাস না হলে পদত্যাগের লিখিত অঙ্গীকার করেন তারা।
শুধু দুর্নীতিবিরোধী দাবিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না বিক্ষোভ। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা সাম্প্রতিক দুর্নীতি ও খাবারে বিষক্রিয়ার অভিযোগে বিতর্কিত বিনামূল্যের টিফিন কর্মসূচি বাতিলের দাবি জানান।
এ ছাড়া দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক জীবনে সামরিকীকরণের প্রবণতা বন্ধের দাবিও তোলেন তারা।
আরও পড়ুন: নেপাল-তিব্বতে আকস্মিক বন্যার কারণ কী
দিনভর বিক্ষোভের পর সন্ধ্যার দিকে আন্দোলনকারীদের একাংশ নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
বিক্ষোভের মধ্যে একটি পুলিশ পোস্ট ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে জাকার্তা শহরে ১৮ হাজার ৫০০-এর বেশি নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়। আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে পরিবেশ বিনষ্টের অভিযোগে পুলিশ ৬৫ জনকে আটক করেছে।
আরও পড়ুন: খেলার মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
জাকার্তার বাইরে ইয়োগ্যাকার্তা ও মাকাসার শহরেও দুর্নীতিবিরোধী বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত বছরের সরকারবিরোধী আন্দোলনের এক বছর পূর্তিতে এবারের বিক্ষোভে দুর্নীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ নতুন করে সামনে এসেছে।

