ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালাতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনী। এখন শুধু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমতির অপেক্ষা। তাঁর অনুমতি পেলে আগামী ৯৬ ঘণ্টার মধ্যেই আবারও অভিযান শুরু করতে পারে মার্কিন বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদরদপ্তর পেন্টাগনের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
পেন্টাগনের ওই দুই কর্মকর্তা জানান, সম্ভাব্য অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক সেনা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন রয়েছে। এবার যে সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে, তার পরিধি শুধু রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র কিংবা ইরানের অন্যান্য স্থাপনা ধ্বংসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। এসব স্থাপনা ধ্বংস করলেও সেগুলো অল্প সময়ের মধ্যে আবার গড়ে তোলা সম্ভব।
আরও পড়ুন: হুথিদের হুমকি উপেক্ষা করে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু রিয়াদের
উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী। পরে মে মাসে ওই অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন ট্রাম্প।
অপারেশন এপিক ফিউরি শেষ হওয়ার পর থেকে, অর্থাৎ মে মাসের পর ইরানে বড় ধরনের কোনো সামরিক অভিযান চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, গত কয়েক মাসের এই বিরতিকে পরবর্তী অভিযানের প্রস্তুতির কাজে লাগানো হয়েছে।
পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, “এটি বেশ বড় ধরনের একটি অভিযান হবে।” সামরিক পরিকল্পনার বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারাও একই ধরনের মত দিয়েছেন।
তাদের মধ্যে কয়েকজনের ধারণা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেবেন—এটি প্রায় নিশ্চিত, এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। চলতি বছরের শেষ নাগাদ যেকোনো সময় এ নির্দেশ আসতে পারে বলে মনে করছেন তারা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর অভিযান শুরুর নির্দেশ দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে তাদের ধারণা।

