বিদেশি উদ্ধারকারী দল নয়, নগদ অর্থ চায় নেপাল

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতার কারণে বিদেশি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার।
২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতার কারণে বিদেশি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার।|ছবি: সংগৃহীত

নেপাল-চীন সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে উদ্ধারকাজের জন্য দক্ষিণ কোরিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ উদ্ধারকারী দল পাঠাতে চায়। তবে দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, নেপালের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীগুলোই উদ্ধার অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা রাখে, বিদেশি উদ্ধারকারী দলের প্রয়োজন নেই। ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতার কারণে বিদেশি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার। খবর কাঠমান্ডু পোস্টের।

আরও পড়ুন: নেপাল-তিব্বতে আকস্মিক বন্যার কারণ কী

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধারকারী দল পাঠানোর পরিবর্তে বিদেশি দেশগুলোর কাছ থেকে নগদ অর্থ সহায়তা চেয়েছে নেপাল। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুনর্গঠন পর্বে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও আর্থিক সহায়তা ও অন্যান্য সহযোগিতা চাওয়া হবে। এরই মধ্যে কয়েকটি দেশ নেপালকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। আরও কয়েকটি দেশ অনুসন্ধান, উদ্ধার, পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবারের বন্যার পর ১৭৮ জন ভারতীয়, ৬৫ জন মার্কিন নাগরিক, ৫১ জন মালয়েশীয়, ৫৩ জন ইউক্রেনীয়, ৩৩ জন ব্রিটিশ, ৩৫ জন অস্ট্রেলীয়, ২৫ জন কানাডীয় এবং আরও প্রায় তিন ডজন দেশের নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। চীনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নেপালে অন্তত ১০০ জন চীনা নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যায় আটকে পড়া দুই শতাধিক ভারতীয় নাগরিক দেশে ফিরতে চান।

নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা নিজেদের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল নেপালে পাঠানোর জন্য আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে একাধিকবার অনুরোধ করেছে। তবে সরকার তাদের জানিয়েছে, নেপালের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীই এ অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম।

আরও পড়ুন: মক্কা চুক্তিতে যোগ দিতে আগ্রহী বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নেপালে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠাতে অনুমতি চেয়েছে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলো। তবে ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতার কারণে এবার বিদেশি উদ্ধারকারী দল না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। তার মতে, সে সময় বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলের উপস্থিতি এবং দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছিল। নেপাল সেনাবাহিনী ও পুলিশের সুপারিশের ভিত্তিতেই এবার এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!