ভারতের ঝাড়খণ্ডে শিক্ষার বৈষম্য, শিক্ষক সংকট ও আর্থিক অনটনে ঝুঁকিতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের ভবিষ্যৎ। কোভিড-১৯ মহামারির সময় দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু শিশুর পড়াশোনায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। সময়ের সঙ্গে শিক্ষার সামগ্রিক মান কিছুটা উন্নত হলেও পিছিয়ে পড়া অনেক শিক্ষার্থী এখনো সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের লাতেহার জেলার ডুম্বি গ্রামের ১৬ বছর বয়সী রাধিকার গল্প সেই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি।
পাঁচ বছর আগে রাধিকার সঙ্গে যখন দেখা হয়েছিল, তখন সে হিন্দি বর্ণমালার অনেক অক্ষর চিনতে ও লিখতে পারত না। কোভিড মহামারির কারণে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় তার পড়াশোনার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। পাঁচ বছর পর সে দশম শ্রেণি পাসের সনদ দেখাতে পারলেও এখনো হিন্দি ও ইংরেজি পড়া, সাধারণ অঙ্ক করা এবং নিজের পাঠ্যবিষয়গুলো মনে রাখার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ে।
সম্প্রতি নিজের পুরোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে দেয়ালে লেখা একটি সরকারি বার্তা পড়ার চেষ্টা করছিল রাধিকা। হিন্দিতে লেখা ওই বার্তার বাংলা অর্থ, ‘অপরিচ্ছন্নতা প্রাণঘাতী, পরিচ্ছন্নতাই সেবা’। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও সে শুধু প্রথম শব্দটি পড়তে পারে। বাকি অংশ পড়ার বদলে বিদ্যালয়ের আশপাশে ছড়িয়ে থাকা আবর্জনার দিকে ইশারা করে।
রাধিকার এই অভিজ্ঞতা শুধু একজন শিক্ষার্থীর পিছিয়ে পড়ার গল্প নয়; বরং মহামারির অভিঘাত, শিক্ষক সংকট, দারিদ্র্য ও সামাজিক বৈষম্য কীভাবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সীমিত করে দেয়, তারও একটি উদাহরণ।
মহামারিতে থমকে গিয়েছিল পড়াশোনা
২০২১ সালে রাধিকার সঙ্গে যখন দেখা হয়েছিল, তখন করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে জারি করা লকডাউনের কারণে ভারতের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। রাধিকার স্কুলও প্রায় দুই বছর বন্ধ ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শহরাঞ্চলের অনেক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চললেও প্রত্যন্ত এলাকার সরকারি স্কুলগুলোতে নিয়মিত পাঠদান কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। রাধিকার গ্রামে ইন্টারনেট সংযোগ ছিল না। তার পরিবারের কাছেও ছিল না কোনো স্মার্টফোন। ফলে অনলাইন শিক্ষার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয় সে।
আরও পড়ুন:কলেজে ভর্তির সুযোগ চান এসএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা, বিশেষ সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার দাবি
ভারতের শিক্ষা অধিকার আইনের আওতায় একসময় পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করার বিধান ছিল। অতিরিক্ত পরীক্ষার চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে চালু এই ব্যবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শেখার ঘাটতি শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে বলে সমালোচনা রয়েছে। ২০২৪ সালে ওই বিধানে পরিবর্তন আনা হয়। এরই মধ্যে রাধিকা নবম শ্রেণিতে উঠে যায়, যদিও তার মৌলিক শিক্ষার ভিত্তি ছিল দুর্বল।
শেখার মানে বড় ধাক্কা
ভারতের শিক্ষা-ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘প্রথম’-এর বার্ষিক শিক্ষা প্রতিবেদন এএসইআর ২০২২-এ মহামারির সময় শিক্ষার্থীদের পড়ার দক্ষতা কমে যাওয়ার চিত্র উঠে আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ভারতের পঞ্চম শ্রেণির ৪৮ শতাংশ শিক্ষার্থী দ্বিতীয় শ্রেণির উপযোগী লেখা পড়তে পারত। ২০১৮ সালে এ হার বেড়ে ৫০ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছিল। কিন্তু ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৪২ দশমিক ৮ শতাংশে।
জাতীয় পর্যায়ে পড়ার দক্ষতায় এই পতনকে শিক্ষাক্ষেত্রে বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে ২০২৪ সালের এএসইআর প্রতিবেদনে শিশুদের শেখার মান পুনরুদ্ধারের কিছু ইতিবাচক অগ্রগতিও উঠে এসেছে। যদিও এই উন্নতি সব রাজ্য ও সব শ্রেণির শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে সমান নয়।
অর্থনীতিবিদ জাঁ দ্রেজ ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন গ্রামে শিশুদের শিক্ষার পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁর মতে, গড় পরিসংখ্যানের আড়ালে বড় ধরনের বৈষম্য লুকিয়ে থাকে। আগে থেকেই দুর্বল শিক্ষাব্যবস্থার ওপর মহামারির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে পিছিয়ে থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে।
ঝাড়খণ্ডে শিক্ষক সংকট প্রকট
ভারতের অন্যতম দরিদ্র রাজ্য ঝাড়খণ্ডে শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্কুলশিক্ষাবিষয়ক তথ্যভান্ডার ইউডাইস প্লাসের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যটির প্রায় ৪০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্র একজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।
দেশজুড়ে একক শিক্ষকনির্ভর বিদ্যালয়ের সংখ্যা কমলেও ঝাড়খণ্ডে এ ধরনের স্কুলের সংখ্যা বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:প্রবাসীদের সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি দেবে সরকার, আবেদন শুরু ২৫ অক্টোবর
বর্তমানে রাধিকা মানিকা ব্লকের ৭৫টি গ্রামের জন্য নির্ধারিত একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। সেখানে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ২০ জন। অর্থাৎ প্রতি ১০০ শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক রয়েছেন একজন। অথচ ভারতে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে জাতীয় গড় অনুপাত প্রতি ২৩ শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃগেন্দ্র নারায়ণ সিং বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। দুর্বল শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে সামনের বেঞ্চে বসানোসহ বিভিন্নভাবে সহায়তার চেষ্টা করা হয়।
তবে এসব উদ্যোগ রাধিকার মতো শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ট হচ্ছে না। নিজের বিদ্যালয়ে কী পরিবর্তন চায়, এমন প্রশ্নের জবাবে রাধিকা বলে, ‘আমার আরও শিক্ষক দরকার।’
নিয়োগ জটিলতায় দীর্ঘদিনের ঘাটতি
ঝাড়খণ্ডে শিক্ষক নিয়োগের ঘাটতিও শিক্ষার মান উন্নয়নে বড় বাধা হয়ে রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজ্যটিতে শিক্ষকের প্রায় এক লাখ পদ খালি রয়েছে।
২০১৬ সালের পর দীর্ঘ সময় রাজ্যে নতুন শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। পরে ২০২৫ সালে শিক্ষক সংকট নিয়ে অর্থনীতিবিদ জাঁ দ্রেজ একটি জনস্বার্থ মামলা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে ২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগের নির্দেশ দেন।
রাজ্য সরকার জানিয়েছে, যোগ্যতার মানদণ্ড নিয়ে আইনি জটিলতার কারণে নিয়োগপ্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে ছিল। সরকার স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সময়োপযোগী পদ্ধতিতে নিয়োগ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।
ভাইয়ের টিউশন আছে, রাধিকার নেই
রাধিকার পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা তার শিক্ষাজীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। তার ছোট ভাই বিষ্ণু নিয়মিত টিউশন পড়ার সুযোগ পায়। ফলে পড়াশোনা ও বিষয় বোঝার ক্ষেত্রে সে রাধিকা এবং পরিবারের অন্য ভাইবোনদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।
রাধিকা ও বিষ্ণুসহ পরিবারের পাঁচ বোনের বাবা-মা কেউই লেখাপড়া জানেন না। তাদের পরিবারের শিশুরাই প্রথম প্রজন্ম, যারা স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ফলে স্কুলের বাইরে পড়াশোনায় সহায়তার জন্য তাদের মূল ভরসা ব্যক্তিগত টিউশন।
কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে পরিবারের একমাত্র ছেলে বিষ্ণুই টিউশনের সুযোগ পেয়েছে। কোভিডের সময় স্কুল বন্ধ থাকলেও সে নিয়মিত টিউশন করত বলে তার পড়াশোনার ক্ষতি তুলনামূলকভাবে কম হয়েছিল।
আরও পড়ুন: শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বগুড়া আর্মি মেডিকেল কলেজ, আবেদন ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত
এএসইআর ২০২২ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে ব্যক্তিগত টিউশনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর হার ২০১৮ সালের ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২২ সালে ৩০ শতাংশে পৌঁছেছিল। ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্যে এ হার ছিল প্রায় ৪৫ শতাংশ।
প্রধান শিক্ষক মৃগেন্দ্র নারায়ণ সিংয়ের ভাষ্য, মহামারির সময় শিক্ষকদের বিভিন্ন সরকারি দায়িত্বেও নিয়োজিত করা হয়েছিল। ফলে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাঁর মতে, চেষ্টা সত্ত্বেও তখন মাত্র ১০ শতাংশ শিশুর কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছিল।
শিক্ষায় রাজ্যভেদে বৈষম্য
২০২০ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতি প্রণয়ন করে। এতে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রাথমিক স্তরে সর্বজনীন মৌলিক সাক্ষরতা ও গণনাদক্ষতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে তৃতীয়, ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শেখার মান মূল্যায়ন করে। ওই মূল্যায়নে রাজ্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়। মৌলিক দক্ষতার ক্ষেত্রে ঝাড়খণ্ড ছিল নিচের দিকের রাজ্যগুলোর মধ্যে। উচ্চতর শ্রেণিতেও রাজ্যটির শিক্ষার্থীরা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক স্তরে যেসব রাজ্য ভালো ফল করে, সেগুলো পরবর্তী শ্রেণিতেও তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থান ধরে রাখতে পারে। বিপরীতে, শুরুতে পিছিয়ে থাকা রাজ্যগুলোর শিক্ষার্থীরা পরবর্তী শিক্ষাজীবনেও নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়।
অর্থাৎ শিক্ষার প্রাথমিক ভিত্তি দুর্বল হলে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত হওয়া মানেই শিক্ষার্থীর প্রকৃত দক্ষতা অর্জন নয়।
স্কুলে যাতায়াতও বড় বাধা
রাধিকার শিক্ষাজীবনে এখন আরেকটি বড় সমস্যা স্কুলে যাতায়াত। গ্রামের বাড়ি থেকে তার উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হেঁটে যেতে প্রায় এক ঘণ্টা লাগে। সঙ্গে কোনো সহপাঠী না থাকলে একা সেই পথে যেতে চায় না সে। ফলে অনেক দিন স্কুলে যাওয়া হয় না।
তার মা কুন্তী দেবী স্কুলে যাতায়াতের জন্য টেম্পোর ভাড়া দিতে রাজি নন। তাঁর বক্তব্য, পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই সীমিত যে এ ধরনের খরচ বহন করা সম্ভব নয়। রাধিকা স্কুলে যেতে চাইলে তাকে হেঁটেই যেতে হবে।
তবে নানা বাধার মধ্যেও ঝাড়খণ্ডে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার বেড়েছে। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যটির গ্রস এনরোলমেন্ট রেশিও ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন: মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দেবে ল্যাবএইড হাসপাতাল, আবেদন ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত
কিন্তু শিক্ষার্থীদের স্কুলে ভর্তি করানোই যথেষ্ট নয়। তাদের নিয়মিত উপস্থিতি, দক্ষ শিক্ষক, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ এবং শেখার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।
ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রাধিকা
অর্থনীতিবিদ জাঁ দ্রেজের মতে, শিক্ষার ঘাটতি দীর্ঘ মেয়াদে শিশুদের কর্মজীবনেও প্রভাব ফেলে। পর্যাপ্ত দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় তাদের অনেকেই পরবর্তী সময়ে অন্য রাজ্যে কাজের সন্ধানে যায়। কিন্তু আধুনিক শ্রমবাজারে কাজ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা তাদের অনেকেরই থাকে না।
রাধিকাও ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়। জীবনে কী হতে চায়, এমন প্রশ্নের জবাবে সে মৃদু হেসে মাথা নিচু করে বলে, ‘আমি চাকরি করতে চাই, টাকা উপার্জন করে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চাই।’
কিন্তু সেই লক্ষ্য কীভাবে পূরণ করবে, তা এখনো জানে না সে।
রাধিকার গল্প দেখিয়ে দেয়, শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করা কিংবা স্কুলে ভর্তির হার বাড়ানোই শিক্ষার সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না। প্রকৃত অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে প্রতিটি শিশুর শেখার দক্ষতা, শিক্ষকের প্রাপ্যতা, আর্থিক সামর্থ্য এবং নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় শিক্ষার সুযোগ পেলেও রাধিকার মতো অনেক শিশুর জন্য সেই সুযোগ ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার মতো যথেষ্ট হয়ে উঠবে না।
সূত্র: বিবিসি বাংলা

