চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে তাকে বের করে আনা হয়। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় অ্যাম্বুলেন্সে করে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন তিনি।
তবে উপাচার্যকে ক্যাম্পাস ছাড়ার আগে একটি শর্ত দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনিক ভবনের নিচে তাকে নিয়ে আসার পর মাইক হাতে এক শিক্ষার্থী ঘোষণা দেন, উপাচার্যকে ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে এই শর্তে যে, তিনি আর চুয়েট ক্যাম্পাসে ফিরতে পারবেন না।
আরও পড়ুন: বিইউপিতে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে মাস্টার্সে ভর্তি, আবেদন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত
এ সময় ওই শিক্ষার্থীর পাশে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন। পরে উপাচার্যকে পুলিশি নিরাপত্তায় অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন।
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েটে চলমান আন্দোলনের মধ্যে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। সকাল পৌনে ৯টার দিকে তার ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য বহিরাগত ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এর প্রতিবাদে তারা তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে তাকে অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। এরপর থেকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন উপাচার্য।
আরও পড়ুন: গবেষণায় ১০ লাখ টাকা অনুদান দেবে ইউজিসি, আবেদন করবেন যেভাবে
উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে অচলাবস্থা চলছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। ওই দিন উপাচার্য ভবনে তালা দেওয়া হয়। পরে মুখোশ মিছিল, চোখ বাঁধা প্রতিবাদ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন তারা। একপর্যায়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক বন্ধের কর্মসূচিও শুরু হয়।
এদিকে, উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশের প্রতিবাদে সোমবার চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করে। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কম সিজিপিএ নিয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, যে ১০ স্কলারশিপে আবেদন করতে পারবেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে উপাচার্যকে উদ্ধার করতে চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। এ সময় জেলা প্রশাসক জানান, একজন সম্মানিত শিক্ষক তাদের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন এবং চিকিৎসার জন্য যাওয়ার কথা বলেছেন। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তারা ক্যাম্পাসে এসেছেন।
পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপাচার্যকে প্রশাসনিক ভবন থেকে বের করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। তবে তাকে কোন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

