ভালোবাসার গল্প কি এবার আইনের নোটিশে থেমে যাবে? রোমান্টিক ঘরানার নাটক ও সিনেমা নির্মাণ বন্ধের দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ জারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন প্রশ্নই উঠেছে দেশের টেলিভিশন ও বিনোদন অঙ্গনে। বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে টেলিভিশন শিল্পসংশ্লিষ্ট ১০টি সংগঠন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এক যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনগুলো জানায়, একটি নির্দিষ্ট ঘরানার নাটক ও সিনেমা নির্মাণ বন্ধের উদ্যোগ সৃজনশীল শিল্পের স্বাভাবিক বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের মতে, বাংলাদেশের টেলিভিশন ও অডিওভিজ্যুয়াল শিল্প শুধু বিনোদন নয়, সংস্কৃতি ও অর্থনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রেমের শহরে তাসনিয়া ফারিণ, বললেন ‘নিজের বলে কিছুই নেই’
সংগঠনগুলোর ভাষ্য, কোনো কনটেন্ট নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকতেই পারে। তবে তার প্রতিকার করতে প্রচলিত আইন, বিধিমালা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর পথ খোলা রয়েছে। একটি পুরো ঘরানা বন্ধ করে দেওয়ার দাবি সেই আইনি কাঠামোর বদলে সৃজনশীল স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের শামিল হতে পারে। তবে শুধু প্রতিবাদেই থামেনি সংগঠনগুলো।
দায়িত্বশীল, মানসম্মত ও দর্শকবান্ধব কনটেন্ট নির্মাণের প্রয়োজনীয়তাও তারা স্বীকার করেছে। অর্থাৎ আপত্তিকর বা নিম্নমানের কনটেন্ট নিয়ে আলোচনা হতে পারে, কিন্তু তার সমাধান যেন পুরো একটি সৃজনশীল ধারা বন্ধ করে দেওয়ার মধ্যে না আসে—এমন অবস্থানই নিয়েছে তারা। যৌথ বিবৃতিতে শিল্পীদের কর্মক্ষেত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং দেশের বিনোদন জগতের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা চাওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: মির্জা ফখরুলকে পুতিনের অভিনন্দন
এই প্রতিবাদে স্বাক্ষর করেছেন ডিরেক্টরস গিল্ড বাংলাদেশ, অভিনয় শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ, টেলিভিশন নাট্যকার সংঘসহ বিভিন্ন সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। ফলে বিষয়টি এখন শুধু একটি লিগ্যাল নোটিশে সীমাবদ্ধ নেই; বরং সৃজনশীল স্বাধীনতা বনাম নিয়ন্ত্রণ—এই পুরোনো বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

