গল্পটা শুরু হয়েছিল প্রেমের প্রচলিত কোনো দৃশ্যে নয়, বরং বাটন ফোনের যুগে গভীর রাতে আসা এক অপরিচিত ফোনকল থেকে। সেই ফোনের ওপারের তরুণী একদিন জানিয়েছিলেন, তাঁর অভিনয় ভালো লাগে। সেই আলাপই একসময় গড়ায় বিয়েতে। দেখতে দেখতে গতকাল দাম্পত্য জীবনের ২০ বছর পূর্ণ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী ও চিকিৎসক শান্তা চৌধুরী।
আরও পড়ুন: রোমান্টিক নাটক-সিনেমা বন্ধের নোটিশে উত্তাল টিভি অঙ্গন
বিশেষ দিনটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্মৃতিকাতর হয়ে নিজের ভালোবাসার গল্প শেয়ার করেছেন চঞ্চল। তিনি লিখেছেন, ‘বাটন ফোনের যুগে গভীর রাতে হঠাৎ একটা মেয়ে ফোন করে বলল, আপনার অভিনয় আমার ভাল্লাগে’। যদিও সে বলেনি, তবে আমার মনে হয়েছিল শুধু অভিনয় নয়, আমাকেও মনে হয় তার ভালো লাগে।’ এরপর প্রায় এক মাস ফোনে কথাবার্তা। সামনাসামনি দেখা হওয়ার আগেই বিয়ের প্রস্তাবের কথাও চূড়ান্ত হয়ে যায়। তবে দুই পরিবারের জন্য বিষয়টি এতটা সহজ ছিল না। চঞ্চল জানান, তাঁর নিজের পরিবার যেখানে বিয়ের সিদ্ধান্তে খুশি হয়েছিল, সেখানে শান্তার পরিবারের কেউ কেউ এই সম্পর্কের বিরোধিতা করেছিলেন।
শেষ পর্যন্ত নিজেদের সিদ্ধান্তেই বিয়ের পথে হাঁটেন তারা। প্রথমে আইনিভাবে এবং পরে ধর্মীয় রীতি মেনে বিয়ে সম্পন্ন করেন চঞ্চল-শান্তা। সেই থেকে কেটে গেছে দুই দশক। এই দীর্ঘ পথচলার দিকে ফিরে তাকিয়ে অভিনেতা মজার ছলে লিখেছেন, ‘কখনও ভাবিনি আমার মতো একজন বাউন্ডেলের সঙ্গে ভদ্রমহিলা এতদিন সংসার করবে।’
আরও পড়ুন: রিজভীর নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি-পেজ, থানায় জিডি
এই সংসার টিকে থাকার পেছনে তাঁদের একমাত্র সন্তান শুদ্ধ-এর ভূমিকাও তুলে ধরেছেন চঞ্চল। জীবনে নিজের জন্য খুব বেশি প্রত্যাশা না থাকলেও স্ত্রী ও সন্তানের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি। পোস্টের শেষদিকে অভিনেতার আবেগ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি লেখেন, “আমার জন্য কম প্রার্থনা করলেও, বউ-ছেলের জন্য সবাই দোয়া করবেন। সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে আমরা ভালো আছি। আমি ভালোবাসি আমার ঘর, ভালোবাসি দেশ।”
একটি অপরিচিত ফোনকল থেকে শুরু হওয়া সম্পর্কের দুই দশক পূর্ণ হওয়ার গল্প তাই শুধু দাম্পত্যের গল্প নয়; এটি সময়, আস্থা আর একসঙ্গে পথ চলারও এক অনন্য অধ্যায়।

