প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সরকারি আদেশ (জিও) জারির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ৩৬তম, ৩৭তম ও ৩৮তম বিসিএসের সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা। পদোন্নতির আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
রোববার সকাল ১০টা থেকে রাজধানীর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি শুরু করেন পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তারা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও প্রায় নয় বছর ধরে তারা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত। অথচ একই সময়ে চাকরিতে যোগ দেওয়া অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা ২০২৩ সালেই পদোন্নতি পেয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, পদোন্নতির বিষয়ে গত ১৬, ১৭ ও ২১ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সভা হলেও এখন পর্যন্ত পদোন্নতির সরকারি আদেশ প্রকাশ করা হয়নি।
আরও পড়ুন: টানা ছুটি শেষে কাল খুলছে স্কুল-মাদরাসা, কলেজ খুলবে ১ নভেম্বর
দীর্ঘদিন পদোন্নতি না পাওয়ায় ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাদের। পাশাপাশি অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের তুলনায় আর্থিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, সরকার ঘোষিত নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে একই ব্যাচের অন্যান্য ক্যাডারের সহকর্মীদের সঙ্গে তাদের মাসিক বেতনের ব্যবধান ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
পদোন্নতির জটিলতা নিরসনে গত ৪ জানুয়ারি সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন তারা। তাদের ভাষ্য, অন্যান্য ক্যাডারে নিয়মিত পদোন্নতির পাশাপাশি একাধিক স্তরে পদোন্নতি এবং সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির নজির রয়েছে। কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা দেখা যাচ্ছে। দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান চান তারা।
আন্দোলনকারীদের দাবি, তাদের তুলনায় ১৩ ব্যাচ জুনিয়র ৪৯তম বিসিএসের কর্মকর্তারাও একই প্রভাষক পদে যোগ দিচ্ছেন। ফলে জ্যেষ্ঠ ও নবীন কর্মকর্তাদের একই পদে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যা তাদের সামাজিক, আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
অবস্থান কর্মসূচিতে ৩৭তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, একই ব্যাচের অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা বর্তমানে ষষ্ঠ গ্রেডে কর্মরত। শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিয়ে ডিপিসির সভা অনুষ্ঠিত হলেও এখনো জিও জারি হয়নি।
তিনি বলেন, ‘দেশ যখন শিক্ষাকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে, তখন অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের বেতনের ব্যবধান ২০-২৫ হাজার টাকা।’
আরও পড়ুন: একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির তৃতীয় ধাপের আবেদন শুরু ২৬ অক্টোবর
শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, পদোন্নতির সরকারি আদেশ আজকের মধ্যেই জারি করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে তারা ইতিমধ্যে সচিবালয়ে গেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি।
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সানজিদা উর্মি বলেন, তাদের চেয়ে ১৩ ব্যাচ জুনিয়র কর্মকর্তারা ষষ্ঠ গ্রেডে থাকলেও তারা এখনো নবম গ্রেডে রয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘পদোন্নতি না হলে মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আগ্রহ হারাবেন। এটি আমাদের কোনো বাড়তি চাওয়া নয়, অধিকার। আমরা আন্দোলন করছি না, শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি।’
কর্মকর্তাদের তিন দফা দাবি হলো—
১. গত ১৬, ১৭ ও ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সরকারি আদেশ অবিলম্বে জারি করা।
২. প্রযোজ্য বিধিমালা, যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা অনুসরণ করে আর্থিক সুবিধাসহ পদোন্নতি নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত, স্বচ্ছ ও নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক পদোন্নতি কাঠামো গড়ে তোলা।
৩. পদোন্নতির দীর্ঘসূত্রতা নিরসনে প্রয়োজনীয় সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টি করা এবং স্বাস্থ্য ক্যাডারের অনুরূপ ব্যবস্থার আলোকে শিক্ষা ক্যাডারের অধ্যাপক পদকে গ্রেড-৩-এ উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া।
আরও পড়ুন: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লিনিক্যাল ও কাউন্সেলিং সাইকোলজিতে মাস্টার্স, আবেদন শেষ ২৪ নভেম্বর
দ্রুত পদোন্নতির সরকারি আদেশ জারি এবং দীর্ঘদিনের বৈষম্য নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা।

