শুধু সার্টিফিকেট দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। বরং সব মানুষের জন্য শিক্ষার সুযোগ তৈরি এবং তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলাই এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বুধবার বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনেকের শিক্ষাজীবন শুরু হলেও নানা কারণে তা শেষ করা সম্ভব হয় না। এসব মানুষকে পুনরায় লেখাপড়ায় উৎসাহিত করতে হবে এবং তাদের জন্য শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো এ ধরনের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো।
আরও পড়ুনঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তনের অনলাইনে আবেদন শুরু ১ নভেম্বর
তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করে গড়ে তোলার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়কেও আরও উন্নত করা হবে। শিক্ষাকে সহজলভ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যেই বেগম খালেদা জিয়া বাউবি প্রতিষ্ঠা করেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে অনিয়মিত শিক্ষার্থীরাও বয়সের বাধা অতিক্রম করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানটিকে কীভাবে আরও আধুনিক ও উন্নত করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।
দেশের জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ (টিভেট) খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সম্প্রতি ‘বেইজিং অ্যাগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চীনের সঙ্গে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা দেশের কারিগরি শিক্ষা খাতের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
আরও পড়ুনঃ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বি.এড অনার্স ৩য় বর্ষের মৌখিক পরীক্ষার তারিখ ও কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত ইনস্টিটিউট অব টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের (আইটিভেট) শিক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী।
এ ছাড়া পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের স্বীকৃতি হিসেবে নয়জন শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। শিক্ষামন্ত্রী তাঁদের হাতে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন।

