৫১তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার অনলাইন আবেদনপত্র পূরণ, আবেদন ফি জমা এবং প্রবেশপত্র সংগ্রহের বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি)। বিপিএসসির নির্ধারিত ওয়েবসাইট ও টেলিটকের ওয়েবসাইটে এসব নির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী তদবির করলে তা অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীকে প্রথমে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। প্রার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য যাচাইয়ের জন্য এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার রোল নম্বর, নিবন্ধন নম্বর, শিক্ষা বোর্ড এবং পাসের বছর দিতে হবে। এরপর শিক্ষা বোর্ডের তথ্যভান্ডারে থাকা তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে প্রার্থীর নাম, বাবা ও মায়ের নামসহ প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদন ফরমে যুক্ত হবে। এসব তথ্য পরবর্তী সময়ে পরিবর্তন বা সংশোধন করা যাবে না।
আরও পড়ুন: প্রজেক্ট অফিসার নিয়োগ দেবে কাতার চ্যারিটি, আবেদন ৯ অক্টোবর পর্যন্ত
অনলাইন আবেদন ফরমটি তিনটি অংশে বিভক্ত- ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ক্যাডার পছন্দ। ব্যক্তিগত তথ্যের অংশে জন্মতারিখ, লিঙ্গ, চাকরির বর্তমান অবস্থা, কোটা, বৈবাহিক অবস্থা, জাতীয়তা, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন বা পাসপোর্ট নম্বর দিতে হবে। পাশাপাশি উচ্চতা, ওজন ও বুকের মাপও উল্লেখ করতে হবে। প্রার্থীর জাতীয়তা অবশ্যই বাংলাদেশি হতে হবে।
নির্দেশনায় শারীরিক যোগ্যতার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট মাপ উল্লেখ করা হয়েছে। পুরুষ প্রার্থীদের সর্বনিম্ন উচ্চতা ১৫২ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৪৮ দশমিক ৯৯ কেজি হতে হবে। নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন উচ্চতা ১৪৭ দশমিক ৩২ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৪০ দশমিক ৮২ কেজি নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতার অংশে এইচএসসি ও স্নাতক পর্যায়ের প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। ৫১তম বিশেষ বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের জন্য অনুষ্ঠিত হওয়ায় এতে দুটি পদে আবেদন করা যাবে। পদ দুটি হলো- বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের সহকারী সার্জন, ক্যাডার কোড ৪১০ এবং সহকারী ডেন্টাল সার্জন, ক্যাডার কোড ৪৫০। প্রার্থীদের এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রির বিষয় ও নির্ধারিত কোড অনুযায়ী তথ্য পূরণ করতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতায় জিপিএ ও বিভাগ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও সরকারি প্রজ্ঞাপনে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুইডেনের ১০ স্কলারশিপ
ফরমের সব অংশ পূরণ করার পর প্রার্থী ‘অ্যাপ্লিকেশন প্রিভিউ’ দেখে আবেদনপত্রের তথ্য যাচাই করতে পারবেন। এ পর্যায়ে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ থাকবে। তবে আবেদন ফি জমা দেওয়ার পর আবেদনপত্রের কোনো তথ্য পরিবর্তন বা সংশোধন করা যাবে না। তাই ফি জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নিতে হবে।
সব তথ্য চূড়ান্ত করার পর নির্দিষ্ট যাচাই কোড ব্যবহার করে ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করতে হবে। ছবির মাপ হতে হবে ৩০০×৩০০ পিক্সেল এবং ফাইলের আকার সর্বোচ্চ ১০০ কিলোবাইট। ছবিটি রঙিন হতে হবে এবং তিন মাসের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না। অন্যদিকে স্বাক্ষরের মাপ হতে হবে ৩০০×৮০ পিক্সেল এবং ফাইলের আকার সর্বোচ্চ ৬০ কিলোবাইট।
আবেদন চূড়ান্তভাবে জমা দেওয়ার পর ছবি ও স্বাক্ষরযুক্ত আবেদনকারীর একটি কপি পাওয়া যাবে। এতে একটি ইউজার আইডি থাকবে। পরবর্তী প্রয়োজনের জন্য এই কপিটি প্রিন্ট করে অথবা সংরক্ষণ করে রাখতে হবে।
আবেদন ফি দিতে টেলিটকের প্রিপেইড সিম থেকে নির্ধারিত নিয়মে দুটি খুদে বার্তা বা এসএমএস পাঠাতে হবে। সাধারণ প্রার্থীদের আবেদন ফি ২০০ টাকা। শিক্ষা বোর্ডের তথ্য যাচাইয়ের চার্জ ও মূল্য সংযোজন করসহ মোট ২০৫ টাকা জমা দিতে হবে। অন্যদিকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের আবেদন ফি ৫০ টাকা। যাচাইয়ের চার্জসহ তাদের মোট ৫৫ টাকা দিতে হবে।
আরও পড়ুন: পেট্রোবাংলার আওতাধীন ১২ প্রতিষ্ঠানে নতুন বেতন স্কেলে ৭৫৩ পদে চাকরি, আবেদন অনলাইনে
ফি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হলে প্রার্থী একটি পাসওয়ার্ড পাবেন। এই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে পরবর্তী সময়ে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে হবে। পাসওয়ার্ড হারিয়ে গেলে খুদে বার্তার মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধারের সুযোগও রাখা হয়েছে।
অনলাইনে আবেদন করতে গিয়ে কোনো সমস্যায় পড়লে টেলিটক নম্বর থেকে ১২১-এ কল করে সহায়তা নেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে ৮ এবং পরে ১ চাপলে হেল্পলাইনের সরাসরি সহায়তা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পিএসসি।

