গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের কামরাঙ্গীচালা এলাকায় শারীরিক পরিবর্তনের পর নতুন পরিচয়ে কাবির দেওয়ান নামে পরিচিত এক এসএসসি পরীক্ষার্থী জিপিএ ৪ দশমিক ৫৬ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। জন্মের সময় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নথিতে তার নাম ছিল কেয়া আক্তার। বর্তমানে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার নাম রাখা হয়েছে আব্দুর রহমান কাবির দেওয়ান।
নতুন পরিচয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখছে কাবির।
সোমবার এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বিষয়টি এলাকায় নতুন করে আলোচনায় আসে। কাবিরের ফলাফল জানতে এবং তাকে একনজর দেখতে অনেকে তার বাড়িতে ভিড় করেন। এতে পরিস্থিতি সামাল দিতে পরিবারের সদস্যদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তবে কাবিরের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ জীবনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে তার পরিবার।
আরও পড়ুন: কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাংলাদেশে ভিসার গ্লোবাল সার্ভিস সেন্টার চান প্রধানমন্ত্রী
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বেলতলা এলাকার কাইয়ুম দেওয়ান ও কণিকা ইসলামের সন্তান কাবির। বর্তমানে সে পরিবারের সঙ্গে কালিয়াকৈরের মৌচাক ইউনিয়নের কামরাঙ্গীচালা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকে।
কেয়া আক্তার নামে নিবন্ধিত অবস্থায় কাবির কামরাঙ্গীচালা এলাকার ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
কাবিরের মা কণিকা ইসলাম জানান, ২০২৫ সালের শেষ দিকে তার সন্তানের শরীরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে। প্রথমে বিষয়টি পরিবারের বাইরে কাউকে জানানো হয়নি। পরে কণ্ঠস্বরসহ বিভিন্ন শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন।
পরে চিকিৎসকের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে কাবিরের নতুন পরিচয় গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে সংসদ ভবনে সভা
এসএসসির ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে কাবির দেওয়ান বলে, “আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। এসএসসির ফলাফল ভালো হয়েছে। ভবিষ্যতে ভালো চাকরি করে পরিবার ও দেশের জন্য কাজ করতে চাই।”
ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন আগে তারা ওই শিক্ষার্থীর শারীরিক পরিবর্তন ও নতুন পরিচয়ের বিষয়টি জানতে পারেন। এত দিন সে কেয়া আক্তার নামেই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছে। বর্তমানে তার নাম কাবির দেওয়ান। এবার সে জিপিএ ৪ দশমিক ৫৬ পেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।

