ঋণ প্রতিশ্রুতি বেড়ে ১২৭ কোটি ডলার, হঠাৎ বাংলাদেশ মুখী মধ্যপ্রাচ্য

জ

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

বাংলাদেশের জন্য বিদেশি ঋণ ও অনুদানের নতুন প্রতিশ্রুতি বেড়েছে
বাংলাদেশের জন্য বিদেশি ঋণ ও অনুদানের নতুন প্রতিশ্রুতি বেড়েছে|ছবি: সংগৃহীত

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের জন্য বিদেশি ঋণ ও অনুদানের নতুন প্রতিশ্রুতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৭ কোটি ৩০ লাখ ডলারে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ৯১ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি বেড়েছে ৩৯ দশমিক ৮ শতাংশ।

এ সময়ে বাংলাদেশের জন্য ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ও উন্নয়ন সহযোগীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে কোনো ঋণ বা অনুদানের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এ অঞ্চল থেকে ১১৪ কোটি ৭৫ লাখ ৮০ হাজার ডলারের ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি এসেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বাড়ার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নেও বড় অঙ্কের বৈদেশিক অর্থায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি) প্রায় ১০০ কোটি ডলার অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ অর্থায়ন বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে। এ প্রকল্পসহ মধ্যপ্রাচ্যের উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নের উদ্যোগ বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

আরও পড়ুন: অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সহায়তার দ্বিগুণের বেশি বিদেশি ঋণ পরিশোধ

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), কর্ডোনেশন ও নরডিকের কাছ থেকে নতুন ঋণ-অনুদানের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি। তবে জাপান ৩ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলার, জাতিসংঘ ১৪ মিলিয়ন ডলার, ইউরোপ ৬৬ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ডলার এবং এশিয়া ৪১ দশমিক ২৯ মিলিয়ন ডলারের ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে নতুন করে পাওয়া মোট প্রতিশ্রুতির মধ্যে ঋণের পরিমাণ ১১৪ কোটি ৭৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার। অন্যদিকে, অনুদানের প্রতিশ্রুতি রয়েছে ১২ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

এদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে মোট ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলারের বৈদেশিক সহায়তা ছাড় হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৯৬ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এ ছাড়া এডিবি ১৬২ মিলিয়ন ডলার, ভারত ১০৪ মিলিয়ন ডলার, চীন ১৪ মিলিয়ন ডলার এবং রাশিয়া ২০ মিলিয়ন ডলার ছাড় করেছে।

আরও পড়ুন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তনের অনলাইনে আবেদন শুরু ১ নভেম্বর

জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ছাড় হওয়া সহায়তার মধ্যে প্রকল্প সহায়তার পরিমাণ ছিল ৬৫ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলার। এর মধ্যে ঋণ হিসেবে এসেছে ৫৪ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে ১১ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এ ছাড়া খাদ্য সহায়তা হিসেবে ১ কোটি ডলারের অনুদান ছাড় হয়েছে।

অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে বাংলাদেশকে ব্যয় করতে হয়েছে ১৩৫ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১২৭ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি ঋণ পরিশোধের ব্যয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

ইআরডির হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বিদেশি ঋণের আসল বাবদ ৮৫ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে ব্যয় হয়েছিল ৮১ কোটি ৬৯ লাখ ৯০ হাজার ডলার। একই সময়ে ঋণের সুদ পরিশোধের পরিমাণ ৪৬ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ৪৯ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!