মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা জানিয়েছে, আর্টেমিস–২ মিশনের চারজন নভোচারী বর্তমানে পৃথিবী ও চাঁদের মাঝামাঝি পথ অতিক্রম করেছেন এবং তাঁরা নির্ধারিত লুনার ফ্লাইবাইয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। অভিযান শুরুর মাত্র তিন দিনের মাথায় শুক্রবার (৪ এপ্রিল) এ তথ্য প্রকাশ করেছে নাসা।
বুধবার (১ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে শক্তিশালী এসএলএস রকেটের পিঠে চেপে মহাকাশে যাত্রা শুরু করে আর্টেমিস–২। বর্তমানে নভোচারীদের বহনকারী অরিয়ন মহাকাশযান পৃথিবী থেকে প্রায় ১,৩৬,০৮০ মাইল (২,১৯,০০০ কিলোমিটার) দূরে অবস্থান করছে।
মিশনের নভোচারীরা মহাকাশ থেকে পৃথিবীর হাই-রেজল্যুশনের অসাধারণ ছবি পাঠিয়েছেন। নাসা জানিয়েছে, মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান এই ছবি তুলেছেন। চাঁদের পথে যাত্রার শেষ ধাপে মহাকাশযানের ইঞ্জিন সফলভাবে প্রজ্বলনের (ইঞ্জিন বার্ন) পর এই দৃশ্যগুলো ক্যামেরাবন্দি করা হয়।
আরও পড়ুন: রাউটার কেনার আগে যা জানা জরুরি
নাসা প্রথম ছবিটির নাম দিয়েছে ‘হ্যালো ওয়ার্ল্ড’। ছবিতে দেখা যাচ্ছে নীল জলরাশির আটলান্টিক মহাসাগর, সূর্যের আলোয় বায়ুমণ্ডলের পাতলা উজ্জ্বল রেখা, এবং দুই মেরুতে সবুজাভ অরোরা। ছবিতে পৃথিবীকে কিছুটা উল্টো অবস্থানে দেখা যাচ্ছে। বাঁ দিকে পশ্চিম সাহারা মরুভূমি ও আইবেরীয় উপদ্বীপ, ডান দিকে দক্ষিণ আমেরিকার পূর্বাংশ, এবং ছবির নিচের দিকে ডান পাশে উজ্জ্বল একটি গ্রহ শনাক্ত করা গেছে, যা মূলত শুক্র গ্রহ।
আর্টেমিস–২ মিশনটি অ্যাপোলো মিশন শেষ হওয়ার পর প্রথম মানববাহী মহাকাশযান হিসেবে চাঁদের দিকে যাচ্ছে। শুক্রবার ভোরে ‘ট্রান্স-লুনার ইনজেকশন বার্ন’ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ছবিগুলো তোলা হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অরিয়ন মহাকাশযান পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে চাঁদের পথে রওনা হয়।
মিশনটি একটি লুপ আকৃতির পথে এগোচ্ছে, যা নভোচারীদের চাঁদের অপর প্রান্তে ঘুরিয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনবে। সব ঠিক থাকলে ৬ এপ্রিল নভোচারীরা চাঁদের দূরবর্তী অংশ অতিক্রম করবেন এবং ১০ এপ্রিল পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
আরও পড়ুন: মোবাইলে ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে যা করবেন
মিশন স্পেশালিস্ট জেরেমি হ্যানসেন জানিয়েছেন, ইঞ্জিন বার্ন সম্পন্ন হওয়ার পর নভোচারীরা জানালার কাছে দাঁড়িয়ে একের পর এক ছবি তুলছিলেন এবং চাঁদের আলোয় আলোকিত পৃথিবীর দৃশ্য উপভোগ করছিলেন। কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান মিশন কন্ট্রোলে যোগাযোগ করে জানালাগুলো পরিষ্কার করার কথাও জিজ্ঞেস করেছেন, কারণ এত বেশি সময় জানালার কাছে থাকায় সেগুলো ময়লা হয়ে গিয়েছিল।
নাসা ২০২৬ সালের এই ছবি প্রকাশের সঙ্গে ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো–১৭ মিশনের তুলনামূলক ছবি দেখিয়েছে। নাসা জানায়, গত ৫৪ বছরে প্রযুক্তিতে অনেক অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু মহাকাশ থেকে পৃথিবী দেখা এখনো অপরূপ সুন্দর।

