রুদ্ধশ্বাস লড়াই, নাটকীয় সমতা এবং শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের উত্তেজনা—সবকিছু মিলিয়ে জমজমাট এক ফাইনালের সাক্ষী থাকল ফুটবল বিশ্ব। আর্সেনালকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জিতেছে প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি)। এই জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের ট্রফি নিজেদের দখলে রাখল ফরাসি জায়ান্টরা।
শনিবার বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ গোলে সমতায় শেষ হয়। অতিরিক্ত সময়েও কোনো দল ব্যবধান গড়ে দিতে না পারায় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। সেখানে স্নায়ুচাপের পরীক্ষায় সফল হয়ে শিরোপা উৎসবে মাতে পিএসজি।
আরও পড়ুন: ইউটিউবে বিনামূল্যে বিশ্বকাপ দেখতে পারবেন ব্রাজিলের ফুটবলপ্রেমীরা
বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হওয়া ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। তবে প্রথম ধাক্কা দেয় আর্সেনাল। ম্যাচের শুরুতেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জার্মান ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজ। এগিয়ে যাওয়ার পর আর্সেনাল কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশল গ্রহণ করে এবং নিজেদের লিড ধরে রাখার চেষ্টা চালায়।
অন্যদিকে গোল হজমের পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে পিএসজি। একের পর এক আক্রমণে আর্সেনালের রক্ষণকে চাপে রাখে তারা। সেই চাপের ফলও পায় ফরাসি ক্লাবটি। ক্রিস্তিয়ান মসকেরার ফাউলের কারণে পেনাল্টি পায় পিএসজি। স্পট কিক থেকে কোনো ভুল না করে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান উসমান দেম্বেলে।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে নেইমার নয়, ব্রাজিলের আর্মব্যান্ড পড়বেন মারকিনিওস
সমতায় ফেরার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে পিএসজি। তবে আর্সেনালের রক্ষণ এবং গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় আর কোনো গোল আদায় করতে পারেনি তারা। অন্যদিকে পাল্টা আক্রমণে সুযোগ তৈরি করলেও সেটিকে গোলে পরিণত করতে ব্যর্থ হয় ইংলিশ ক্লাবটি।
নির্ধারিত সময় শেষে ১-১ সমতা থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও দুই দলই সর্বোচ্চ চেষ্টা চালায়। এ সময় আর্সেনাল একটি পেনাল্টির জোরালো দাবি তুললেও রেফারি তা নাকচ করে দেন। সিদ্ধান্তটি নিয়ে মাঠে ও গ্যালারিতে কিছুটা বিতর্ক তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত খেলা চলতে থাকে।
আরও পড়ুনঃ বিশ্বকাপজয়ী ১৭ জনকে রেখে আর্জেন্টিনার শক্তিশালী দল ঘোষণা
অতিরিক্ত সময়েও কোনো দল গোল করতে না পারায় ম্যাচের নিষ্পত্তি হয় টাইব্রেকারে। সেখানে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল উপহার দেয় পিএসজি। নিজেদের পাঁচটি শটের মধ্যে চারটি সফলভাবে জালে পাঠায় তারা। অন্যদিকে আর্সেনালের খেলোয়াড়রা চাপের মুখে একটি গুরুত্বপূর্ণ শট মিস করলে ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে পিএসজি।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়েন পিএসজির খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সমর্থকেরা। টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের ট্রফি জিতে ইউরোপের সেরা ক্লাব হিসেবে নিজেদের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করল ফরাসি দলটি।
অন্যদিকে শিরোপার খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে আর্সেনালকে। দুর্দান্ত লড়াই করেও ভাগ্য তাদের পক্ষে না থাকায় আরও একটি ইউরোপীয় শিরোপার অপেক্ষা বাড়ল লন্ডনের ক্লাবটির।

