বিশ্বকাপের মাত্র দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি অর্জন করলেন আরেকটি ঐতিহাসিক স্বীকৃতি। স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রিন্সেস অফ আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর স্পোর্টস’ এবার এককভাবে জিতেছেন তিনি। তার এই অর্জন ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় যোগ করেছে।
আর্জেন্টিনার রোজারিওর এই তারকা ফুটবলারকে এই পুরস্কার প্রদান করা হয় ক্রীড়া জগতে অসাধারণ অবদান, দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ার এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে। প্রিন্সেস অফ আস্তুরিয়াস ফাউন্ডেশন প্রতিবছর এই পুরস্কার দিয়ে থাকে বিশ্বের বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদদের।
পুরস্কার ঘোষণার সময় জুরি বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্প্যানিশ সাঁতারু ও সাতবারের প্যারালিম্পিক স্বর্ণপদক বিজয়ী তেরেসা পেরালেসের নেতৃত্বাধীন ২৭টি মনোনয়নের মধ্য থেকে মেসিকে বেছে নেওয়া হয়। ১২টি ভিন্ন দেশের প্রস্তাবিত নাম পর্যালোচনা করে সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আরও পড়ুনঃ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দল ঘোষণা, দলে ফিরলেন মোসাদ্দেক
জুরি কমিটি জানায়, মেসির এই স্বীকৃতি শুধু তার খেলোয়াড়ি দক্ষতার জন্য নয়, বরং তার মানবিক অবদান এবং ব্যক্তিত্বের কারণেও। পুরস্কার ঘোষণা করতে গিয়ে বলা হয়, ‘তাঁর চোখধাঁধানো প্রতিভা, অসাধারণ ক্রীড়াজীবন এবং সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ প্রসারে তাঁর অসামান্য ও চলমান দাতব্য কাজের জন্য তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।’
এছাড়া মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ারজুড়ে তার আচরণ ও মূল্যবোধকেও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। জুরি বোর্ড আরও জানায়, ‘মাঠে তার অনুকরণীয় আচরণ এবং তার ধারাবাহিকতা, বিনয় ও দলীয় খেলার প্রতি অঙ্গীকারের জন্য তিনি সকলের শ্রদ্ধা ও প্রশংসাও অর্জন করেছেন।’
পুরস্কার মূল্যায়নে মেসি ফাউন্ডেশনের (২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত) কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ফাউন্ডেশন ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও তরুণদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনা করে।
ফুটবলের ইতিহাসে এই অর্জন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর আগে কোনো ফুটবলার এককভাবে এই সম্মাননা পাননি। যদিও ২০০২ সালে ব্রাজিল জাতীয় দল এবং ২০১০ সালে স্পেন জাতীয় দল যৌথভাবে এই পুরস্কার পেয়েছিল। ২০১২ সালে ইকার ক্যাসিয়াস ও জাভি হার্নান্দেজ যৌথভাবে সম্মানিত হলেও, এবারই প্রথম কোনো খেলোয়াড় এককভাবে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতলেন।

