বিশ্বকাপজয়ী ১৭ জনকে রেখেই আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় দল ঘোষণা করেন তিনি। অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া লিওনেল মেসি।
কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের ১৭ ফুটবলারকে ধরে রেখেছেন স্কালোনি। বাকি আটজনের হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ অভিষেক। এক বিশ্বকাপ থেকে আরেক বিশ্বকাপে এত বেশি খেলোয়াড় অপরিবর্তিত রাখার নজির খুব কমই আছে। এর আগে ১৯৯৮ থেকে ২০০২ বিশ্বকাপে ফ্রান্স ১৩ জন ফুটবলারকে ধরে রেখেছিল। তবে স্কালোনির সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ, এই দলই ৩৬ বছরের শিরোপা-খরা ঘুচিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল।
বাদ পড়া ৯ জনের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিলেন লেফট ব্যাক মার্কোস আকুনিয়া। মার্চে ঘোষিত দলেও ছিলেন তিনি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ফর্ম হারানো এই ডিফেন্ডারের বদলে স্কালোনি আস্থা রেখেছেন ফাকুন্দো মেদিনা ও কোলো বার্কোর বহুমুখী সামর্থ্যের ওপর। তরুণ ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনোও শেষ পর্যন্ত জায়গা পাননি চূড়ান্ত দলে।
দল ঘোষণা নিয়ে আগেই সতর্ক বার্তা দিয়েছিলেন স্কালোনি। তিনি বলেছিলেন, ‘কেউ যদি ফিট থাকার নিশ্চয়তা দিতে না পারে, তবে আমরা বিকল্প খুঁজবই। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বলেই যে তাদের জায়গা পাকা, এমনটি নয়। আমরা অনেক তরুণকে ডেকেছি, তবে মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ কথা বলবে।’ গত এক সপ্তাহ এসেইসায় ফুটবলারদের ফিটনেস নিয়ে নিবিড় কাজ করেছে আর্জেন্টিনার কোচিং ও মেডিকেল স্টাফ।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে স্কালোনির রণ কৌশলে পরিবর্তন, ভাগ্য খুলতে পারে যাদের
গোলবারের দায়িত্ব থাকছে এমিলিয়ানো মার্তিনেসের কাঁধে। ব্যাকআপ হিসেবে আছেন হেরোনিমো রুইয়ি ও আতলেতিকো মাদ্রিদের গোলরক্ষক হুয়ান মুসসো। রক্ষণভাগে নিকোলাস ওতামেন্দি, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেসের সঙ্গে বিকল্প হিসেবে জায়গা পেয়েছেন অলিম্পিক মার্শেইয়ের অধিনায়ক লিওনার্দো বালের্দি। ফুলব্যাক হিসেবে থাকছেন নাহুয়েল মলিনা ও নিকো তালিয়াফিকো। তবে গনসালো মন্তিয়েলের পেশির চোট নিয়ে এখনো কিছুটা শঙ্কা রয়েছে। আগামী ৬ জুন হন্ডুরাস ও ৯ জুন আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের পর তার অবস্থা স্পষ্ট হবে।
অগাস্তিন জিয়াই ও নিকোলাস কাপালদো মূল ২৬ জনের স্কোয়াডে না থাকলেও ফিফায় জমা দেওয়া ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক তালিকায় স্ট্যান্ডবাই হিসেবে থাকবেন।
মাঝমাঠে কাতার বিশ্বকাপের আগে চোটে বাদ পড়া জিওভানি লো সেলসো এবার ফিরেছেন দলে। কোপা আমেরিকায় লাউতারো মার্তিনেসকে দিয়ে জয়সূচক গোল করিয়ে নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেছিলেন তিনি। রদ্রিগো দে পল, এনসো ফার্নান্দেস, আলেক্সিস মাক আলিস্তার ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসদের সঙ্গে এবার গুইদো রদ্রিগেসের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন এসেকুয়েল পালাসিওস। অন্যদিকে ‘ওয়াইল্ড কার্ড’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে কোলো বার্কোকে, যিনি লেফট ব্যাক, সেন্ট্রাল মিডফিল্ড ও উইং—তিন ভূমিকাতেই খেলতে পারেন।
আক্রমণভাগ গড়তেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন স্কালোনি। দল নির্বাচনের ব্যাখ্যায় তিনি ব্যবহার করেছেন ‘ভার্টিগো’ শব্দটি। অর্থাৎ তীব্র গতির উল্লম্ব ফুটবল খেলতে সক্ষম ফুটবলারদেরই বেছে নিয়েছেন তিনি। মেসি, লাউতারো মার্তিনেস ও হুলিয়ান আলভারেজ থাকছেন প্রথম পছন্দ হিসেবে। অভিজ্ঞতার কারণে জায়গা পেয়েছেন গিলিয়ানো সিমিওনে ও নিকো গনসালেস। পাশাপাশি তরুণ থিয়াগো আলমাদা ও নিকো পাসও জায়গা করে নিয়েছেন দলে। স্কালোনির ‘গোপন অস্ত্র’ হিসেবে ধরা হচ্ছে ১.৯০ মিটার উচ্চতার স্ট্রাইকার হোসে লোপেসকে।
বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ১৬ জুন কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। এরপর অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষেও মাঠে নামবে স্কালোনির দল। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়েই এবার উত্তর আমেরিকার বিশ্বমঞ্চে নামছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
আর্জেন্টিনার ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (অ্যাস্টন ভিলা), হেরোনিমো রুলি (অলিম্পিক মার্সেই), হুয়ান মুসো (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ)।
ডিফেন্ডার: ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো (টটেনহ্যাম হটস্পার), লিসান্দ্রো মার্টিনেজ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), নিকোলাস ওতামেন্দি (বেনফিকা), নিকোলাস তালিয়াফিকো (অলিম্পিক লিওঁ), নাহুয়েল মলিনা (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), গনজালো মন্তিয়েল (রিভার প্লেট), লিওনার্দো বালের্দি (অলিম্পিক মার্সেই), ফাকুন্দো মেদিনা (অলিম্পিক মার্সেই)।
মিডফিল্ডার: রদ্রিগো দে পল (ইন্টার মায়ামি), এনজো ফার্নান্দেজ (চেলসি), অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (লিভারপুল), লেয়ান্দ্রো পারেদেস (বোকা জুনিয়র্স), জিওভানি লো সেলসো (রিয়াল বেটিস), এক্সেকিয়েল পালাসিওস (বায়ার লেভারকুজেন), ভ্যালেন্তিন বার্কো (রেসিং স্ট্রাসবুর্গ)।
ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি), হুলিয়ান আলভারেজ (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), লাউতারো মার্টিনেজ (ইন্টার মিলান), নিকো গনজালেজ (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), থিয়াগো আলমাদা (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), জুলিয়ানো সিমিওনে (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ), নিকো পাজ (কোমো), হুয়ান ম্যানুয়েল লোপেজ (পালমেইরাস)।

