আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্রে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কর্মী ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ইউকেজি (ইউকেজি)-এর এক গবেষণা অনুযায়ী, এই টুর্নামেন্টের কারণে বিশ্বব্যাপী নিয়োগকর্তাদের প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ ক্ষতি হতে পারে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালে কাজের সময় ম্যাচ দেখা, কাজের সময়সূচি পরিবর্তন এবং কর্মীদের উপস্থিতি-অনুপস্থিতির কারণে কর্মক্ষেত্রে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটবে। এই অনুমানটি একটি জরিপের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে, যা পরিচালনা করেছে সেন্সাসওয়াইড। এতে মে মাসে আটটি দেশের ৮ হাজার কর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যার মধ্যে মেক্সিকোও রয়েছে।
বিশ্বকাপটি ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এবারের আসরটি যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো। টুর্নামেন্টে অংশ নেবে ৪৮টি দেশ এবং মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। বিশেষ করে আমেরিকা মহাদেশে আয়োজিত বহু ম্যাচ কর্মঘণ্টার মধ্যেই সম্প্রচারিত হবে, ফলে অফিস সময় ও ম্যাচের সময়সূচির মধ্যে বড় ধরনের সংঘাত তৈরি হবে।
আরও পড়ুনঃ নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে কঠিন বার্তা দিল আলজেরিয়া
গবেষণায় দেখা গেছে, ৩৭ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন তারা বিশ্বকাপের সময় নিজেদের কাজের সময়সূচি পরিবর্তন করবেন। এছাড়া ২৭ শতাংশ কর্মী বলেছেন তারা দেরিতে অফিসে আসতে পারেন, আগে চলে যেতে পারেন বা পুরো দিনই অনুপস্থিত থাকতে পারেন। আরও ১১ শতাংশ কর্মী স্বীকার করেছেন যে তারা কাজের সময় হ্যাংওভার নিয়ে কাজ করতে পারেন, আর ১৪ শতাংশ জানিয়েছেন তারা গোপনে কাজের ফাঁকে ম্যাচ বা হাইলাইটস স্ট্রিম করবেন।
এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে যুক্তরাষ্ট্রে। গবেষণা অনুযায়ী, এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রেই প্রায় ১১.৭ বিলিয়ন ডলার উৎপাদনশীলতা ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষতি জার্মানিতে, যেখানে প্রায় ১.৩৪ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
গবেষণাটি আরও বলছে, এই প্রভাব শুধু সাধারণ কর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, ব্যবস্থাপক পর্যায়ের কর্মীরাও এর বাইরে নন। জরিপে অংশ নেওয়া ৪২ শতাংশ ম্যানেজার জানিয়েছেন, তারা বিশ্বকাপ চলাকালে কোনো না কোনো দিন ছুটি নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। আর ৪৫ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা শেষ মুহূর্তে কাজের সময়সূচিতে নমনীয়তা চাইবেন।
ইউকেজি-এর চিফ প্রোডাক্ট অফিসার সুরেশ ভিট্টাল বলেন, ‘যখন অনুপস্থিতি এবং কর্মস্থলে থেকেও মানসিকভাবে অনুপস্থিত থাকা একসঙ্গে ঘটে, তখন এর প্রভাব তাৎক্ষণিক এবং ব্যয়বহুল হয়। উৎপাদনশীলতা কমে যায়, গ্রাহকসেবা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বাকি কর্মীদের ওপর চাপ বেড়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, এই গবেষণাটি সেন্সাসওয়াইড পরিচালনা করেছে এবং এতে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপকে শুধু ক্ষতির উৎস হিসেবে না দেখে এটিকে একটি পরিকল্পনার সুযোগ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। কারণ ৩৭ শতাংশের বেশি কর্মী জানিয়েছেন তারা নিজেদের কাজের সময়সূচি পরিবর্তন করবেন। তাই আগাম পরিকল্পনা, নমনীয় সময়সূচি এবং ম্যাচ দেখার জন্য নির্ধারিত বিরতির ব্যবস্থা করলে কর্মীদের মনোবল বাড়ানো সম্ভব এবং উৎপাদনশীলতার ক্ষতিও কমানো যেতে পারে।
বিশেষ করে লাতিন আমেরিকাসহ ফুটবলপ্রবণ অঞ্চলে এই প্রভাব আরও বেশি হতে পারে। তবে কোম্পানিগুলো কীভাবে এই সময়টি সামাল দেবে, সেটাই শেষ পর্যন্ত উৎপাদনশীলতার ক্ষতির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

