আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ২০২৬ বিশ্বকাপ স্কোয়াড নিয়ে বড় চমক সামনে এসেছে। এখনো চূড়ান্ত দল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। তবে তার আগেই আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় পত্রিকা টিওয়াই স্পোর্টস জানিয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো এবার আর্জেন্টিনা দলে ডাক পাচ্ছেন না।
টিওয়াই স্পোর্টস রিপোর্ট অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির পরিকল্পনায় এই ১৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডারকে বিশ্বকাপ দলে রাখা হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের জন্য সম্ভাব্য ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে তার নাম থাকছে না বলেই বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
ফুটবলীয় পারফরম্যান্স বিবেচনাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম জানিয়েছে। মাস্তান্তুয়োনো দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের নজরে ছিলেন। রিভার প্লেটের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর তিনি আলোচনায় আসেন এবং পরে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন। তবে ইউরোপে গিয়ে তিনি প্রত্যাশিত প্রভাব রাখতে পারেননি।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদে নিয়মিত খেলার সুযোগ না পাওয়াই তার বাদ পড়ার মূল কারণ। ক্লাব পর্যায়ে নিজের জায়গা পোক্ত করতে না পারায় জাতীয় দলের পরিকল্পনায়ও তিনি পিছিয়ে পড়েছেন।
তবে স্কালোনি এই তরুণ মিডফিল্ডারের প্রতিভা নিয়ে কোনো সন্দেহ রাখেন না। এর আগে একাধিকবার তাকে প্রশংসা করেছেন কোচ। এমনকি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে তাকে ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সি পরার সুযোগও দেওয়া হয়েছিল—যে জার্সি লিওনেল মেসি ও দিয়েগো আর্মান্দো ম্যারাডোনার মতো কিংবদন্তিরা পরেছেন। কিন্তু বর্তমান ফর্ম ও মাঠের পারফরম্যান্স বিবেচনায় এবার তাকে দলে রাখা হয়নি।
তার পজিশনে এখন বেশি এগিয়ে আছেন জিওভানি লো সেলসো ও ভ্যালেন্তিন বার্কো। লো সেলসো ইতোমধ্যেই জাতীয় দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় এবং চোট কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট হয়ে ফিরেছেন। অন্যদিকে বার্কো ক্লাব ফুটবলে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স করে কোচিং স্টাফের আস্থা অর্জন করেছেন। আগামী মৌসুমে চেলসিতে যোগ দেওয়ার চুক্তিও রয়েছে তার।
রিয়াল মাদ্রিদের মতো বড় ক্লাবে খেলা সব তরুণ ফুটবলারের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। রিভার প্লেটে দারুণ পারফরম্যান্সের পর তিনি ইউরোপে পা রাখেন এবং দ্রুত নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য ছিল তার। শুরুটা ভালো হলেও ধীরে ধীরে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি।
কোচ জাবি আলোনসো শুরুতে তার প্রশংসা করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলে প্রতিযোগিতা বেড়ে যায়। রিয়াল মাদ্রিদের ভেতরের পরিস্থিতি ও পারফরম্যান্সের ওঠানামার কারণে তার অবস্থান আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় ইনজুরির কারণে। একটি পাবালজিয়া চোট তাকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে রাখে। এতে তার ফিটনেস ও ছন্দ দুটোই নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ আলভারো আরবেলোয়ার অধীনে তার খেলার সময়ও অনেক কমে যায়। সেই সময় দলে আরদা গুলের, ব্রাহিম দিয়াজ এবং থিয়াগো পিতার্চের মতো খেলোয়াড়রা এগিয়ে যান।
আরও পড়ুনঃ বিশ্বকাপে স্কালোনির রণ কৌশলে পরিবর্তন, ভাগ্য খুলতে পারে যাদের
সব মিলিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তার পরিসংখ্যানও খুব উজ্জ্বল নয়। ক্লাবটির হয়ে তিনি ৩৫টি ম্যাচ খেলেছেন, যার মধ্যে ১৭টিতে ছিলেন শুরুর একাদশে। করেছেন ৩টি গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট, সঙ্গে পেয়েছেন ৫টি হলুদ ও ১টি লাল কার্ড। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়েও তিনি ৪টি ম্যাচ খেলেছেন, যার মধ্যে মাত্র একটিতে শুরু থেকে ছিলেন।
অনেকের কাছেই এই সিদ্ধান্ত বিস্ময়কর মনে হলেও এবার বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে তার বাদ পড়া প্রায় নিশ্চিত বলেই জানা গেছে। তবে বয়স মাত্র ১৮ হওয়ায় ভবিষ্যতে জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ তার সামনে রয়েছে। যদি তিনি ইউরোপে নিজের পারফরম্যান্স উন্নত করতে পারেন, তাহলে আর্জেন্টিনা দলে তার ফেরা শুধু সময়ের ব্যাপার বলেই মনে করা হচ্ছে।

