ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ও রূপকথার মতো এক অধ্যায়ের স্মারক এবার উঠতে যাচ্ছে নিলামে। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেওয়ার পথে ফাইনালে দুটি গোল করা কিংবদন্তি পেলের সেই ঐতিহাসিক জার্সিটি বিক্রি করা হবে আন্তর্জাতিক নিলামে।
নিলামটি পরিচালনা করবে বিশ্বখ্যাত নিলাম প্রতিষ্ঠান সোদেবি’জ। আগামী ২৯ জুন থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত এই নিলাম চলবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্বকাপের সময়েই এই নিলাম অনুষ্ঠিত হওয়ায় ফুটবলপ্রেমী ও সংগ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, জার্সিটির দাম ৬০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। যদি এমনটা হয়, তবে এটি পেলের ব্যক্তিগত স্মৃতিচিহ্নের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া জিনিসে পরিণত হবে।
সোদেবি’জ-এর আধুনিক সংগ্রাহ্য সামগ্রীর প্রধান ব্রাম ওয়াখটার বলেন, ‘ইতিহাসের সেরা ফুটবলারের একজন তার রাজত্ব শুরুর রাতে তিনি এই পোশাকটিই পরেছিলেন।’
১৯৫৮ বিশ্বকাপে মাত্র ১৭ বছর বয়সে বিশ্ব ফুটবলকে চমকে দিয়েছিলেন পেলে। হাঁটুর চোট নিয়েও তিনি ব্রাজিল দলে জায়গা পান। প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে না নামলেও পরে তাকে সুযোগ দেওয়া হয়, এবং সেই সুযোগই ইতিহাস বদলে দেয়। তিনি সেই ম্যাচে গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড গড়েন।
আরও পড়ুনঃ হন্ডুরাসের বিপক্ষে চমক দেবে আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশ
এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোল করেন। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে হ্যাটট্রিক করে পুরো বিশ্বকে হতবাক করে দেন এই কিশোর তারকা। ফাইনালে সুইডেনের বিপক্ষে দুটি গোল করে ব্রাজিলকে ৫-২ ব্যবধানে জয় এনে দেন তিনি।
ফাইনালে তার প্রথম গোলটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি বুক দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণ করে এক ডিফেন্ডারের ওপর দিয়ে বল তুলে দিয়ে অসাধারণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন। দ্বিতীয় গোলটি আসে হেড থেকে, ম্যাচের শেষ দিকে।
এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে রয়ে গেছেন পেলে।
সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের জার্সিটি পরে পেলে উপহার দেন তার রুমমেট ও সতীর্থ দিদাকে। হাতে তৈরি সেই জার্সিটি দীর্ঘ সময় দিদার পরিবারের কাছে সংরক্ষিত ছিল। পরবর্তীতে এটি একটি ব্রাজিলিয়ান জাদুঘরে রাখা হয় এবং ২০০৪ সালে বর্তমান অজ্ঞাতপরিচয় এক সংগ্রাহক এটি কিনে নেন।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে ৮২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন তিনবারের বিশ্বকাপজয়ী এই কিংবদন্তি। তার রেখে যাওয়া স্মৃতিচিহ্নগুলোর মধ্যে এই জার্সি এখন আবারও ইতিহাসের বাজারে ফিরে আসছে, নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে।

