ওসমান হাদি হত্যা: রিমান্ড শেষে স্বীকারোক্তি দিলেন অস্ত্র ব্যবসায়ী হেলাল

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

ওসমান হাদি হত্যা: রিমান্ড শেষে স্বীকারোক্তি দিলেন অস্ত্র ব্যবসায়ী হেলাল
ওসমান হাদি হত্যা: রিমান্ড শেষে স্বীকারোক্তি দিলেন অস্ত্র ব্যবসায়ী হেলাল|ছবি: সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার অস্ত্র ব্যবসায়ী মো. মাজেদুল হক হেলাল আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে তিনি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হলে তা রেকর্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা। আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।

আরও পড়ুন: জাতীয় নারীশক্তির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন, আহ্বায়ক মনিরা-সদস্যসচিব মিতু

মামলার এ আসামিকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চট্টগ্রামের ‘হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোং’ নামের অস্ত্রের দোকানের মালিক।

রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, হাদি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটি নরসিংদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মাইক্রো অ্যানালাইসিস পরীক্ষার মাধ্যমে অস্ত্রটির সিরিয়াল নম্বর শনাক্ত করা হয়। ২০১৭ সালে আমদানি করা এই পিস্তলটি রাজধানীর পুরানা পল্টনের ‘এম আইচ আর্মস কোং’ থেকে চকবাজারের ‘ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্স’-এর কাছে বিক্রি করা হয়। পরে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে চট্টগ্রামের ‘হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোং’-এর কাছে এটি হস্তান্তর করা হয়।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ইউনিফর্ম দেবে সরকার: ববি হাজ্জাজ

তদন্তে জানা যায়, ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক মাজেদুল হক হেলাল, যার লাইসেন্স নম্বর ৪৫/৪৮। লাইসেন্সটি পূর্বে তার বাবা হামিদুল হকের নামে থাকলেও ২০০০ সালে তা তার নামে হস্তান্তর করা হয়। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত লাইসেন্সটির নবায়ন করা ছিল, এরপর আর নবায়ন হয়নি। লাইসেন্স নবায়ন না করেই তিনি ‘ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্স’ থেকে অস্ত্রটি কেনেন। পরবর্তীতে অস্ত্রটি তার কাছ থেকে কীভাবে অভিযুক্তদের কাছে পৌঁছায়, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন বলে জানায় পুলিশ। এ কারণে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের বড় দর পতন

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে বেলা ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় হাদিকে বহনকারী অটোরিকশায় মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অস্ত্রোপচারের পর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

আরও পড়ুন: মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে শতাধিক বাংলাদেশিসহ আন্দামানে ট্রলারডুবি, উদ্ধার ৯

হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।

মামলায় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টা, বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার করে গুরুতর আঘাত এবং অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!