শিক্ষকদের রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি না করে শ্রেণিকক্ষে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। তিনি বলেছেন, শিক্ষকতা একটি মহান পেশা এবং একজন শিক্ষকের সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত তার শিক্ষক পরিচয়।
আজ শিক্ষা ভবনে নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যম-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
মাউশি মহাপরিচালক বলেন, “আমরা যদি স্বাধীন সত্তা, সামাজিক মর্যাদা ও আত্মসম্মানের কথা চিন্তা করি, তাহলে শিক্ষক পরিচয়ই সবচেয়ে বড় হওয়া উচিত। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লেজুড়বৃত্তিক সম্পর্ক তৈরি করলে ব্যক্তিগত সম্মান ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।”
আরও পড়ুন: শিক্ষা কারিকুলাম নতুনভাবে সাজানো সময়ের দাবি: প্রধানমন্ত্রী
তিনি বলেন, সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীরা রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত। একইভাবে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও সরকারের অনুদান ও সহায়তা পেয়ে থাকেন। তাই দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকে রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রকাশ বা প্রচার করা সমীচীন নয়।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিতে শিক্ষকদের গুণগত মান, পেশাদারিত্ব ও নৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ড. সোহেল বলেন, “শিক্ষকদের প্রতি সরকার ও সমাজের প্রত্যাশা অনেক বেশি। গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষকদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
আরও পড়ুন: কারিগরি শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি সংক্রান্ত তথ্য এন্ট্রির সময় বাড়ল
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষকের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, এটি নৈতিক দায়িত্বও। শিক্ষক সঠিকভাবে পাঠদান না করলে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি হবে না।”
নকলমুক্ত শিক্ষা পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা শুধু নকলমুক্ত পরীক্ষা চাই না, এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই যেখানে শিক্ষার্থীরা কখনো নকলের চিন্তাই করবে না। শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার ওপর আস্থা রাখে।”
শিক্ষা খাতে জনবল সংকটের বিষয়েও কথা বলেন মাউশি প্রধান। তিনি জানান, দেশের অন্যান্য খাতের মতো শিক্ষা প্রশাসনেও জনবল সংকট রয়েছে। তবে শূন্য পদে যোগ্য ও দক্ষ তরুণদের নিয়োগের বিষয়ে সরকার গুরুত্বসহকারে কাজ করছে।
মাউশিকে দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার ‘অ্যাপেক্স বডি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা ও কার্যক্রম সবক্ষেত্রে শীর্ষ পর্যায়ে থাকা উচিত। এজন্য শিক্ষা পরিবারের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
আরও পড়ুন: শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নই সরকারের প্রধান লক্ষ্য: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষাব্যবস্থাকে একীভূত রাখার পক্ষেও মত দেন তিনি। তার মতে, সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি দক্ষতা অর্জন করলে শিক্ষার্থীরা আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ পাবে, যা দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এস/এম

