শিশুর হালকা জ্বর, সামান্য কাশি বা চোখ লাল হওয়াকে আমরা অনেক সময় সাধারণ সর্দি-কাশি মনে করে গুরুত্ব দিই না। তবে এই ছোট লক্ষণগুলোই অনেক ক্ষেত্রে হামের প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এটি দ্রুত জটিল অবস্থায় পৌঁছাতে পারে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা ছড়াতে শুরু করলে খুব অল্প সময়েই আশপাশের মানুষের মধ্যে বিস্তার লাভ করে। তাই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এটি শুধু রোগীর জন্য নয়, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সুরক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। আসুন জেনে নেওয়া যাক, হামের লক্ষণ দেখা দিলে কী করণীয় এবং কীভাবে পরিস্থিতি সামলানো যায়।
হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলো শনাক্ত করুন
হাম সাধারণত ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। শুরুতে লক্ষণগুলো সাধারণ মনে হলেও কিছু বিষয় লক্ষ্য করলে আলাদা করা যায়। যেমন— হালকা থেকে মাঝারি জ্বর, শুকনো কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া ও পানি পড়া, শরীরে দুর্বলতা অনুভব করা। এই লক্ষণগুলোর ২–৩ দিনের মধ্যে ত্বকে লালচে র্যাশ দেখা দিতে পারে, যা প্রথমে মুখে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
লক্ষণ দেখা দিলে প্রথমে যা করবেন
শিশুকে আলাদা রাখুন। হাম খুব দ্রুত ছড়ায়, তাই লক্ষণ দেখা দিলে শিশুকে অন্য শিশু ও বয়স্কদের থেকে কিছুটা পৃথক রাখার চেষ্টা করুন। এতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমবে।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করুন। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বিশ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুকে দৌড়ঝাঁপ বা অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম থেকে দূরে রাখুন।
পর্যাপ্ত তরল ও পুষ্টিকর খাবার দিন। হামের সময় শরীর দুর্বল হয়ে যায়। তাই পানি, স্যুপ, ডাবের পানি, নরম ও সহজপাচ্য খাবার এবং ভিটামিনসমৃদ্ধ ফলমূল খেতে দিন। এসব খাবার দ্রুত সুস্থতায় সহায়তা করে।
চোখ ও ত্বকের যত্ন নিন
হামের সময় চোখ ও ত্বক বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। তাই চোখ পরিষ্কার পানি দিয়ে আলতোভাবে মুছুন, ত্বকে র্যাশ থাকলে খোঁচানো বা চুলকানো থেকে বিরত রাখুন এবং পরিষ্কার ও নরম কাপড় ব্যবহার করুন।
কখন অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?
*জ্বর খুব বেশি (১০২ ডিগ্রি বা তার বেশি)।
*শ্বাস নিতে সমস্যা হওয়া।
*শিশুর খাওয়ার প্রতি অনীহা বা বারবার বমি।
*অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অচেতনভাব।
*র্যাশ দ্রুত ছড়িয়ে পড়া।
পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সুরক্ষা
একজন আক্রান্ত হলে অন্যদের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত হাত ধোয়া, আক্রান্ত শিশুর ব্যবহৃত জিনিস আলাদা রাখা, ঘর পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখা এবং টিকা নেওয়া আছে কি না তা যাচাই করা নিশ্চিত করুন।
কী করা উচিত নয়?
*শিশুকে জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না।
*নিজে থেকে ওষুধ গ্রহণ শুরু করবেন না।
*র্যাশে অজানা কোনো ক্রিম ব্যবহার করবেন না।
*‘এটা কিছু না’ ভেবে অবহেলা করবেন না।
ভয় নয়, সচেতনতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
হামের নাম শুনলেই অনেক অভিভাবক আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে মনে রাখতে হবে, সময়মতো সঠিক যত্ন ও চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। শিশুর শরীরের ছোট ছোট পরিবর্তন লক্ষ্য করা, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ

