বিবাহবার্ষিকীতে উপহারের বদলে অভিনেত্রী পেলেন ডিভোর্স নোটিশ

T

TGT Admin

2 min read
প্রকাশ:

পিটার হাগ ও সেলিনা জেটলি
পিটার হাগ ও সেলিনা জেটলি|ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

গত বছরের নভেম্বরে মুম্বাইয়ের অন্ধেরির আদালতে স্বামী পিটার হাগের বিরুদ্ধে পারিবারিক কলোহ ও নির্যাতনের অভিযোগে ডিভোর্সের মামলা করেন বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি। সে সময় ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি ৫০ কোটি টাকা এবং অন্যান্য অর্থ দাবি করেন। দুই মাস পর নতুন অভিযোগ তুললেন তিনি। সেলিনার দাবি, অস্ট্রিয়ান ফ্যামিলি কোর্টের যৌথ হেফাজতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তাকে তাদের তিন সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রামে দীর্ঘ একটি পোস্ট শেয়ার করেন সেলিনা। সেখানে তিনি লিখেছেন, গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে আমাদের ১৫তম বিবাহবার্ষিকীতে স্থানীয় পোস্ট অফিস থেকে উপহার আনতে যাচ্ছেন- এই অজুহাতে তাকে নিয়ে যান স্বামী। সেখানেই তার হাতে ডিভোর্সের নোটিশ ধরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি, স্বামী নিজেই তাকে গাড়িতে করে পোস্ট অফিসে নিয়ে যান।

সেলিনার আইনজীবীর দাবি অনুযায়ী, পিটার হাগ গত বছর অস্ট্রিয়ার আদালতে ডিভোর্সের মামলা করেন। ভিয়েনায় থাকা কয়েকটি সম্পত্তি সেলিনার অজান্তেই বিক্রি করা হয়েছে-এ কথা জানার পরই নাকি তিনি এই পদক্ষেপ নেন। অস্ট্রিয়ার মামলায় হাগ প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন, ওই সম্পত্তিগুলোর ওপর সেলিনার কোনো অধিকার নেই।

আইনজীবী আরও জানান, পিটার তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার জন্য সেলিনাকেই দায়ী করছেন। যদিও সন্তানদের স্বার্থে সেলিনা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে বিচ্ছেদ চেয়েছিলেন, পিটার তাতে রাজি হননি।

অভিনেত্রী লিখেছেন, ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর রাত ১টায় প্রতিবেশীদের সহায়তায় আমি অস্ট্রিয়া ছাড়তে বাধ্য হই। আমার সঙ্গে যা ঘটছিল, আমি সেটাকে দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত দমন ও নির্যাতন হিসেবে দেখেছি। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অল্প কিছু টাকা নিয়েই আমাকে ভারতে ফিরে আসতে হয় এবং সেখান থেকেই নতুন করে জীবন শুরু করার চেষ্টা করছি।

সেলিনা লেখেন, আমি আইনগত পথে ও সদিচ্ছা নিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ বিচ্ছেদের চেষ্টা করেছি, যেখানে শুধু সন্তানদের মঙ্গলকেই অগ্রাধিকার দিয়েছি। কিন্তু এসব প্রচেষ্টার জবাবে আমার বিবাহ-পূর্ব সম্পত্তি নিয়ে দাবি এবং অযৌক্তিক শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য ছিল ডিভোর্সের পরও আমার স্বাধীনতা ও মর্যাদা কেড়ে নেওয়া। এক রাতেই আমাকে একজন মা ও অভিভাবক হিসেবে আমার ভূমিকা প্রমাণ করতে বলা হয়, যদিও আমি-ই তাদের মা এবং প্রধান যত্নদাতা।

গত নভেম্বর মাসে সেলিনা প্রতি মাসে ১০ লক্ষ টাকা ভরণপোষণ দাবি করেছেন এবং পিটারকে তার মুম্বাইয়ের বাসভবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আবেদন জানান। পাশাপাশি বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় পিটারের সঙ্গে থাকা তাদের তিন সন্তানের হেফাজতও তিনি চেয়েছেন। স্বামীর কারণে কাজ হারিয়ে আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলে তিনি ৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণও দাবি করেন।

২০১০ সালে সেলিনা ও পিটারের বিয়ে হয়। ২০১২ সালের মার্চে তাদের পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। পাঁচ বছর পর আবারও তাদের ঘরে আসে যমজ সন্তান। তবে হৃদযন্ত্রের জটিলতায় এক সন্তানের মৃত্যু হয়।

সূত্র: এনডিটিভি

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!