সংরক্ষিত নারী আসনে প্রথম দিনেই বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি ৫৬৮

জিটি রিপোর্ট

প্রকাশ:

সংরক্ষিত নারী আসনে প্রথম দিনেই বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি ৫৬৮
সংরক্ষিত নারী আসনে প্রথম দিনেই বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি ৫৬৮|ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রথম দিনেই বিএনপি ৫৬৮টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল থেকে ফরম বিক্রি শুরু হয়, যা চলবে ১২ এপ্রিল রবিবার পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যেই (শুক্রবার-রবিবার) ফরম জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব (প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা) রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, দলীয় মনোনয়ন ফরম মোট তিন দিন বিক্রি হবে।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রথম দিনে মোট ৫২ জন ‘জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী’ হিসেবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, তারা সবাই সরকারি দল বিএনপির নেত্রী এবং দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী।

আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিল, সংসদে বিল পাস

ইসি থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীরা হলেন— মোছা. মনিরা বানু, মোছাম্মাৎ শাহেনেওয়াজ চৌধুরী, এড. ফরিদা আকতার, মমতাজ আক্তার, ফারজানা রশিদ লাবনী, মোসা. নিলুফা ইয়াছমিন খান, মোছা. সায়েমা খাতুন, তাহমিনা বেগম রিপা, রোকেয়া চৌধুরী বেবী, মোসা. শাকিলা ফরহাদ বানু, কাজী নাজিয়া হক, মোছা. জিনাত আরা আহমেদ, কাজী মরিয়ম বেগম, হাফেজা ফেরদৌস লিপন, তাহমিনা খান, রুবিনা আক্তার রুবা, শামিমা রহিম, মুনমুন তালুকদার, এ্যাড. তহমীনা আকতার হাসেমী, তাহসিন শারমিন তামান্না, রেহেনা পারভীন, ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী, খালেদা ইয়াছমিন, মোছা. আফসানা মিমি, সানসিলা জেবরিন, আইরিন মাহবুব, সানজানা চৈতী পপি, শাহানা সুলতানা, সেলিনা আফরোজ, ডা. নাছিমা তালুকদার, নাসিমা আক্তার, কাওসার জাহান ফরিদা, রায়হান রহমান হেলেন, লাইলী, জেসমিনা খানম, মোছা. ফরিদা ইয়াসমিন (ডোরা), মমতাজ বেগম (নয়ন), বেগম রাজিয়া আলম, সেলিনা পারভীন, হাবীবা আখতার পাপিয়া, এডভোকেট আয়শা আকতার সানজি, সায়মা আহমেদ, মোসাম্মৎ শাহীনুর বেগম (সাগর), মাহমুদা আক্তার, ড. নাছিমা ইসলাম চৌধুরী বৃষ্টি, জিন্নাতুন নেছা জিনু, সামিরা আজিম, মোছাম্মৎ সুলতানা বেগম (আঁখি সুলতানা), খাদিজা বেগম, মাহমুদা সুলতানা, মাহমুদা সুলতানা চৌ. (ঝর্না), নিলোফার চৌধুরী মনি।

আরও পড়ুন: জাতীয় সংসদে চলতি অধিবেশনে আজ ২৪টিসহ মোট বিল পাস হল ৯১টি

জানা গেছে, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফরম বিক্রির কার্যক্রম উদ্বোধন করেন রুহুল কবির রিজভী। সংরক্ষিত আসনের ফরম বিক্রির প্রথম দিনেই কয়েকশ নারী নেত্রী সেখানে উপস্থিত হন। তারা লাইনে দাঁড়িয়ে ২ হাজার টাকা দিয়ে রিসিট কেটে ফরম সংগ্রহ করেন। এ সময় নারী নেত্রীদের মধ্যে আবেগ ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।

আরও পড়ুন: দেশে ৩৪,১২৯ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫,৯৮,৯৯৪ শিক্ষক আছেন: শিক্ষামন্ত্রী

ফরম বিতরণের শুরুতে জেরিন দেলোয়ার হোসেনের হাতে প্রথম ফরম তুলে দেন রিজভী। এরপর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক কাজী আসাদুজ্জামান আসাদের সহধর্মিণী ফাতেমা আসাদের হাতে ফরম দেওয়া হয়। পরে বিএনপির নিপুণ রায় চৌধুরী, আরিফা সুলতানা রুমা, সাবিনা খান, শওকত আরা আখতার, রোকেয়া চৌধুরী বেবী, মিনা বেগম, ফরিদা ইয়াসমিন, বেগম মেহেরুন্নেসা হক, পেয়ারা মোস্তফাসহ অন্যদের হাতে ফরম তুলে দেন তিনি।

আরও পড়ুন: শিক্ষা খাতে ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে

এর আগে গত বুধবার সকালে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র বাছাই অনুষ্ঠিত হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। বাছাই নিয়ে আপত্তি থাকলে ২৬ এপ্রিল আপিল করা যাবে এবং সেই আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।

আরও পড়ুন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমে যাচ্ছে সাপ্তাহিক ছুটি

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আসন বণ্টনে বিএনপি জোট পাবে ৩৬টি, জামায়াতে ইসলাম জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা একটি আসন পাবে।

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে আসা প্রার্থীদের উদ্দেশে রিজভী আহমেদ বলেন, ‘আপনারা দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে এসেছেন। আপনাদের সবার মধ্যে আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ফরম সংগ্রহ করবেন এবং দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড সবকিছু বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।’

আরও পড়ুন: ৬ মাসের মধ্যে সাড়ে ১০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু হবে

তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৬/১৭ বছরে আন্দোলনে আপনাদের ভূমিকা, সংসদে কথা বলার সক্ষমতা এবং অন্যান্য যোগ্যতা বিবেচনা করা হবে। সব দিক বিবেচনা করেই দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম বা পার্লামেন্টারি বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। তাদের সিদ্ধান্ত সবাইকে মেনে নিতে হবে। দলীয় সিদ্ধান্ত সবাই মানবেন—এটাই আমার বিশ্বাস।’

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!