শিক্ষকদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের ভাতা দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দুই হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ পেয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, আগামী এক মাসের মধ্যে আংশিকভাবে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের ভাতা বিতরণ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী।
আরও পড়ুন: স্কুল-কলেজের জন্য মাউশির জরুরি নির্দেশনা
আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আংশিক হলেও আগামী এক মাসের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের ভাতা বিতরণ শুরু হবে বলে আশা করছি।’ শিক্ষকদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের ভাতা দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দুই হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ পেয়েছে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদ জিয়া অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের ভাতা বাবদ টাকা দেওয়ার প্রচলন করেন। তবে ২০২২ সালের পর থেকে অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের এ টাকা দেওয়া বন্ধ আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে বিগত সময়ে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষামন্ত্রী। আসছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির দুই শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: শিক্ষাবৃত্তি দেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, আবেদন করতে পারবেন যারা
আগামী অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সেই জায়গায় আমরা এ বছর দুই শতাংশ পর্যন্ত পেয়েছি।’ তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভবিষ্যতে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ বৃদ্ধির আশ্বাস দিয়েছেন। এ বরাদ্দের পুরোটা প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা খাতে ব্যয় করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গত অর্থবছরে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের বরাদ্দ একসঙ্গে ঘোষণা করা হয়েছিল উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার আর সে ধরনের পরিস্থিতি থাকবে না। তিনি বলেন, এবার শুভঙ্করের ফাঁকি নেই। গতবার শুভঙ্করের ফাঁকি ছিল। আইসিটি, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন খাতকে অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের বরাদ্দ দেখানো হয়েছিল।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিশুদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলতে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং তা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ফেলোশিপে পিএইচডির সুযোগ, করুন আবেদন
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলড্রেস দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল কর্মসূচির সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এ বছরের মধ্যেই দেশের সব স্কুলে এ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

