বর্তমান বিশ্বের চাহিদা ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। ২০২৮ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে এই কারিকুলাম বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
রোববার (১৭ মে) দুপুরে ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ও রুম টু রিড-এর যৌথ আয়োজনে প্রাথমিক স্তরের বাংলা ভাষা শিক্ষার দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক বেইজলাইন রিপোর্ট শেয়ারিং সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দের পরিকল্পনা সরকারের: শিক্ষামন্ত্রী
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বের চাহিদা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের বাস্তবতায় ৫০ বছর আগের কারিকুলাম দিয়ে আর নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই সরকার যুগোপযোগী, দক্ষতাভিত্তিক ও বাস্তবমুখী নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নে কাজ করছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তরে ভাষা শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, শুদ্ধ ভাষা চর্চা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষাকে আরও কার্যকর ও আনন্দময় করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ আরও কার্যকর করা, শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক পাঠদান পদ্ধতি চালু, মানসম্মত শিক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত মূল্যায়ন কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বিশ্বসেরা ৩০ স্কলারশিপের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট
বর্তমান পাঠ্যবইয়ের আকার ও উপস্থাপন নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, একটি ছয় বছরের শিশুর হাতে বড় আকারের বই তুলে দিলে তার মধ্যে শেখার আগ্রহ কমে যায়। এ কারণে ছোট ছোট অধ্যায়ভিত্তিক বই ও আনন্দমুখর শেখার পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেন তিনি। বক্তব্যের শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি কাজের একমাত্র মাপকাঠি হবে শেখার ফলাফল।

