বিশ্ববাজারে লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি এবং সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমে আসায় বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়েছে সোনা। শুক্রবার (১ মে) সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রায় ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৫৮৮.৩২ ডলারে নেমে আসে, যা সাপ্তাহিক হিসাবে ২.৩ শতাংশ ক্ষতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিন লেনদেনের এক পর্যায়ে স্পট গোল্ডের দাম নেমে ৪,৫৫৯.৪৮ ডলারে দাঁড়ায়। জুনে সরবরাহযোগ্য যুক্তরাষ্ট্রের সোনার ফিউচার বা আগাম বাজারদরও ০.৬ শতাংশ কমে ৪,৬০০ ডলারে স্থির হয়েছে। মূলত মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ (Fed) মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এখনই সুদের হার না কমানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা সোনা বিক্রি বাড়িয়েছেন।
আরও পড়ুন: বাড়ল বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম
এভারব্যাংকের ওয়ার্ল্ড মার্কেটস প্রেসিডেন্ট ক্রিস গ্যাফনি বলেন, ‘ফেডারেল রিজার্ভ জানিয়েছে, মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ থাকায় অদূর ভবিষ্যতে সুদের হার কমার সম্ভাবনা নেই—এই কারণে ব্যবসায়ীরা সোনা বিক্রি অব্যাহত রেখেছেন।’
সাধারণত সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা সোনার পরিবর্তে ব্যাংক আমানত বা বন্ডে বেশি আগ্রহী হন, ফলে সোনার চাহিদা ও দাম কমে যায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকায় মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। এর ফলে সোনার এই দরপতন আগামী কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও একই ধরনের নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

