পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের প্রতি শান্তি, সম্প্রীতি ও ধৈর্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার (৩ জুন) রাত ৯টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় দীপেন দেওয়ান বলেন, তার পদত্যাগকে কেন্দ্র করে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে যে আবেগ, উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন।
তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি, বাঙালি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাই যেন শান্ত থাকেন, ধৈর্য ধারণ করেন এবং আইনশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখেন। কোনো ধরনের উসকানি, বিভ্রান্তি বা সংঘাতের পথে না গিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ অটুট রাখারও আহ্বান জানান তিনি।
দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সবার এবং এ অঞ্চলের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষার দায়িত্বও সবার। পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থা আরও সুদৃঢ় হোক—এটাই তার প্রত্যাশা।
আরও পড়ুনঃ বিদ্যুতের দাম ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিল পিডিবি
বিবৃতিতে তিনি তার রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা ছিলেন। বাবার দেশপ্রেম, আদর্শ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা তার রাজনৈতিক জীবনের প্রেরণা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে দলটির একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তার রাজনৈতিক আদর্শের ঠিকানা। জীবনের বাকি সময়ও তিনি দল, দলের আদর্শ এবং দেশের মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করতে চান। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক যেকোনো পরিস্থিতিতেই দলের প্রতি তার আনুগত্য ও অঙ্গীকার অটুট থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দীপেন দেওয়ান আরও বলেন, ব্যক্তি নয়, জনগণের কল্যাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামের সব জনগণকে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে বিভেদ নয়; প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, তবে সংঘাত নয়।
আরও পড়ুনঃ প্রথমবারের মতো এককভাবে ‘প্রিন্সেস অফ আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর স্পোর্টস’ জিতলেন মেসি
বিবৃতির শেষাংশে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাজ করে যেতে চান। একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বিএনপিই তার রাজনৈতিক জীবনের শেষ ঠিকানা।
সবশেষে তিনি দেশের মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানিয়ে বলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।”

