চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত চার প্রতারককে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। শনিবার (২৫ এপ্রিল) ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) এনএম নাসিরুদ্দিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সিফাত আহমেদ সজিব, সালমান, মেছবাউল আলম মাহিন ও মহিদুজ্জামান মুন্না।
আরও পড়ুন: এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে দুই জেলায় ৫ কেন্দ্রে আকস্মিক পরিদর্শন শিক্ষামন্ত্রীর
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২০ এপ্রিল (সোমবার) সিটি-ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ (সিউটিসি) কর্তৃক সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিংয়ের সময় ‘এসএসসি-২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁস গ্রুপ’ নামক একটি ফেসবুক পেইজ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
প্রাপ্ত তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সিটিটিসির একটি চৌকস দল একই দিন রাত ৮টায় ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার জিরাবো তাঁজপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিফাত আহমেদ সজিবকে গ্রেফতার করে।
পরে সিফাতের দেওয়া স্বীকারোক্তি ও প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণের পর বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বগুড়ার ধুনট থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. সালমানকে গ্রেফতার করা হয়। একই দিন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ বাজার থেকে দেওগাঁ রিয়াজউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় এলাকা থেকে মেছবাউল আলম মাহিনকে গ্রেফতার করা হয়।
আরও পড়ুন: সরকারি ছুটি বাড়ল একদিন, জারি পরিপত্র
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থানার নওগা ইউনিয়নরে শাহ শরীফ জিন্দানীর (রহঃ) মাজার এলাকায় মহিদুজ্জামান মুন্নাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ কারণে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনগুলো জব্দ করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা অবৈধভাবে আর্থিক লাভের উদ্দেশে একটি স্বচ্ছ, সুন্দর ও সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যাহত করার চেষ্টা করেছে। পাশাপাশি তারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নৈরাজ্য, হতাশা, উদ্বেগ ও নৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালায়।
আরও পড়ুন: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে ইউনিফর্ম দেবে সরকার: ববি হাজ্জাজ
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ডিএমপি রমনা মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

