চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শুরু হচ্ছে আগামীকাল রোববার (৩ মে)। চলবে ৬ মে পর্যন্ত। সম্মেলনে মোট ৩৪টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। জেলা প্রশাসকদের দেওয়া প্রস্তাবের মধ্যে বাছাই করা ৪৯৮টি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পর প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা।
জেলা প্রশাসক সম্মেলন উপলক্ষে শনিবার (২ মে) বিকেলে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি।
আরও পড়ুন: সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন।
নাসিমুল গনি বলেন, ‘রবিবার সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেবেন বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা।
তিনি আরো বলেন, ‘নতুন সরকারের কাছে জনগণের যেসব প্রত্যাশা রয়েছে, ডিসি সম্মেলনে সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নির্ধারিত অধিবেশন ছাড়াও রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন জেলা প্রশাসকরা।’
প্রস্তাবের বিষয়ে সচিব বলেন, ‘জেলা প্রশাসকরা যাতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে পারেন, সে ধরনের প্রস্তাবনা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রস্তাব এসেছে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে।
দেশের হাসপাতালগুলোতে অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন সহজলভ্য করা, প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে অন্তত একটি করে অ্যাম্বুল্যান্স দেওয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্য চেকিংয়ের ব্যবস্থা রাখা, জেলা কারাগারগুলোতে পর্যাপ্ত ডাক্তার ও জনবল নিয়োগসহ বিভিন্ন প্রস্তাব এসেছে।’
আরও পড়ুন: সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাউশির নির্দেশনা জারি
জেলা প্রশাসকদের যোগ্যতা না থাকলে শুধু দলবাজি করে লাভ হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের দলীয় মনোভাব থাকতেই পারে। তবে সরকারি কাজে দলীয় প্রভাব পড়লে তা ঠিক হবে না।’
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও আওতাধীন সংস্থা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং আইন মন্ত্রণালয় বিষয়ে আলোচনা হবে। প্রথম দিনের অধিবেশন শেষে ডিসিরা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
সোমবার (৪ মে) দ্বিতীয় দিন অর্থ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ-সম্পর্কিত আলোচনা হবে। এ ছাড়া এদিন জাতীয় সংসদ ভবনে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়সভায় অংশ নেবেন ডিসিরা।
মঙ্গলবার (৫ মে) তৃতীয় দিন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সম্পর্কে আলোচনা হবে। একই দিনে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ভবনে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ডিসিরা। এদিন নির্বাচন কমিশন-সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনার কথা রয়েছে।
বুধবার (৬ মে) সম্মেলনের শেষ দিনে স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা হবে। এদিন রাতে রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ডিসিসহ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাতের খাবার খাবেন।

