ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি আবারও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজের মারিয়া বার্টিরোমোকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, মাত্র একদিনের মধ্যেই ইরানের পুরো জ্বালানি ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দিতে পারেন।
আরও পড়ুন: ইসলামাবাদে ইরান-মার্কিন আলোচনা শুরু
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এমন সম্ভাব্য হামলা উসকানিমূলক এবং আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী হতে পারে। ট্রাম্পের এ ধরনের হুমকি বাস্তবে রূপ নিলে তা গুরুতর ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
গত সপ্তাহে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, বেসামরিক অবকাঠামোতে ইচ্ছাকৃত হামলা আন্তর্জাতিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন।
আরও পড়ুন: রণতরি প্রস্তুত আছে, আলোচনা ব্যর্থ হলে ফের হামলা: ট্রাম্প
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি অবকাঠামো বেসামরিক জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব স্থাপনায় হামলা হলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা, খাদ্য সরবরাহ ও দৈনন্দিন জীবনব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী।
এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান যদি দ্রুত জলপথ উন্মুক্ত না করে এবং কোনো চুক্তিতে না আসে, তবে ‘একটি আস্ত সভ্যতা আজ রাতেই শেষ হয়ে যেতে পারে’। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন আক্রমণাত্মক বক্তব্যে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।

