তেলের দাম এক লাফে বাড়ল ১০ শতাংশ

T

TGT Admin

2 min read
প্রকাশ:

তেলের দাম বাড়ল ১০ শতাংশ
তেলের দাম বাড়ল ১০ শতাংশ|ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর ওভার-দ্য-কাউন্টার লেনদেনে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স রোববার (১ মার্চ) জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে।

জ্বালানি ও রিফাইনিং খাতভিত্তিক বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান আইসিআইএসের জ্বালানি ও পরিশোধন বিভাগের পরিচালক অজয় পারমার বলেন, সামরিক হামলা তেলের দামের পক্ষে ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও মূল বিষয় হলো হরমুজ প্রণালির বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা।

তার ভাষ্য, যদি প্রণালি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকে, তাহলে বাজার খোলার পর দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি, এমনকি তারও বেশি হয়ে যেতে পারে।

বাণিজ্য সূত্রগুলো জানায়, তেহরান জাহাজ চলাচল নিয়ে সতর্কবার্তা দেওয়ার পর অধিকাংশ ট্যাঙ্কার মালিক, তেল কোম্পানি ও ট্রেডিং হাউস হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল, জ্বালানি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন স্থগিত করেছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ২০ শতাংশের বেশি এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

আরবিসির বিশ্লেষক হেলিমা ক্রফট জানান, মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছেন—ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হলে তেলের দাম ১০০ ডলারেরও বেশি হতে পারে।

এদিকে তেল উৎপাদনকারী জোট ওপেক প্লাস রোববার ঘোষণা দিয়েছে, এপ্রিল থেকে দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানো হবে। তবে এই বৃদ্ধি বৈশ্বিক চাহিদার ০.২ শতাংশেরও কম, যা বাজারের বড় ধাক্কা সামাল দিতে যথেষ্ট নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জির অর্থনীতিবিদ হোর্হে লিওন বলেন, বিকল্প অবকাঠামো ব্যবহার করে কিছু তেল সরবরাহ ঘুরিয়ে দেওয়া সম্ভব হলেও হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে দৈনিক ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ব্যারেল সরবরাহ হারানোর ঝুঁকি থাকবে। সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ও আবুধাবি পাইপলাইন ব্যবহার করেও পুরো ঘাটতি পূরণ করা যাবে না।

রিস্টাডের পূর্বাভাস, লেনদেন শুরু হলে তেলের দাম ২০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯২ ডলারে উঠতে পারে।

ইরান সংকটের জেরে এশিয়ার বিভিন্ন সরকার ও তেল শোধনাগারগুলো নিজেদের মজুত পরিস্থিতি এবং বিকল্প সরবরাহ ও পরিবহন পথ নিয়ে জরুরি মূল্যায়ন শুরু করেছে।

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!